৪০ বছর বয়সে আইভিএফ-এর মাধ্যমে গর্ভধারণ: ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

৪০ বছর বয়সে গর্ভধারণ এখন ক্রমেই সাধারণ হয়ে উঠছে। চল্লিশের কোঠায় আরও বেশি সংখ্যক মহিলা আইভিএফ-এর কথা বিবেচনা করছেন। প্রজনন চিকিৎসার ক্ষেত্রে নানা নতুন সুযোগ তৈরি হলেও, বয়সের সঙ্গে শরীরে যে জৈবিক পরিবর্তনগুলি আসে, তা সম্পূর্ণভাবে উল্টে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ৪০ বছর বয়সে আইভিএফ-এর পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে বয়স কীভাবে ডিম্বাণুর মজুত, ডিম্বাণুর গুণমান এবং চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে, তা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জানাচ্ছেন হাওড়ার বিড়লা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ-এর ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ডা. সোনালি মণ্ডল বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই বয়সে সাধারণত প্রজনন জীবনের আগের সময়ের তুলনায় ডিম্বাশয়ে সঞ্চিত ডিম্বাণুর সংখ্যা কমে যায় এবং বেশি সংখ্যক ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা থাকতে পারে। এই পরিবর্তনগুলি আইভিএফ চিকিৎসার একটি চক্রে গর্ভধারণের সম্ভাবনাকে যেমন প্রভাবিত করতে পারে, তেমনই গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে গর্ভপাতের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। এর পাশাপাশি, ডিম্বাশয়ে উদ্দীপনা দেওয়ার চিকিৎসা কীভাবে পরিকল্পনা করা হবে, কতগুলি ডিম্বাণু পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং অতিরিক্ত ভ্রূণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন কি না—এসব বিষয় নির্ধারণেও এই পরিবর্তনগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

৪০ বছর বয়সে আইভিএফ-এর ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যক্তিভেদে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা প্রয়োজন হয়। এএমএইচ এবং অ্যান্ট্রাল ফলিকল কাউন্ট (AFC)-এর মতো পরীক্ষার মাধ্যমে উদ্দীপনা-চিকিৎসায় ডিম্বাশয় কীভাবে সাড়া দিতে পারে, তা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একই বয়সের দু’জন মহিলার ডিম্বাশয়ে সঞ্চিত ডিম্বাণুর পরিমাণ একেবারেই আলাদা হতে পারে। ফলে একই চিকিৎসায় তাঁদের সাড়াও ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু বয়সের ভিত্তিতে নয়, প্রতিটি ব্যক্তির শারীরিক পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইভিএফ-এর চিকিৎসা-পদ্ধতি পরিকল্পনা করা উচিত।

আইভিএফ চিকিৎসার মানসিক দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। আইভিএফ-এর ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো বিষয় জড়িয়ে থাকতে পারে। ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরিষ্কারভাবে আলোচনা করা, শুরু থেকেই বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখা এবং প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং বা মানসিক সহায়তা নেওয়া চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়াটি সহজভাবে সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

৪০ বছর বয়সে আইভিএফ (IVF) শুরু করার আগে আলোচনা করুন:

• আপনার ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ: স্টিমুলেশন বা উদ্দীপনার প্রতি সম্ভাব্য সাড়া কেমন হতে পারে, তা অনুমান করতে এএমএইচ এবং এএফসি সহায়তা করতে পারে।

• ভ্রূণ পরীক্ষা: আপনার ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে PGT-A-এর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে কি না।

• সম্ভাব্য সাইকেলের সংখ্যা: এটি ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ (ovarian reserve), ডিম্বাণুর সংখ্যা এবং চিকিৎসার প্রতি সাড়ার ওপর নির্ভর করে।

• আপনার প্রজনন-সংক্রান্ত ইতিহাস: পূর্ববর্তী গর্ভাবস্থা, গর্ভপাত, প্রজনন-ক্ষমতা বৃদ্ধির চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার—এসব বিষয় পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করতে পারে।


আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য: গর্ভাবস্থা এবং আইভিএফ (IVF)-এর আগে বিদ্যমান শারীরিক অসুস্থতা বা স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত।

• আবেগীয় সহায়তা: চিকিৎসার সময় কী ধরনের কাউন্সেলিং বা মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব, তা জেনে নিন।

একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা: প্রতিটি ধাপে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে এবং কী ফলাফল যুক্তিসঙ্গতভাবে আশা করা যায়, তা বুঝে নিন।

৪০ বছর বয়সেও আইভিএফ (IVF)-এর মাধ্যমে গর্ভধারণ সম্ভব, তবে এই চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখা জরুরি। ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা (ওভারিয়ান রিজার্ভ), প্রজনন সংক্রান্ত ইতিহাস, সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং মানসিক সুস্থতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তৈরি একটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা নারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।