ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি জুড়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের বহু প্রতীক্ষিত ভোট গণনার সময়সূচী চূড়ান্ত করেছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ২০২৬ সালের ৪ মে, সোমবার সকাল ৮:০০ টায় গণনা প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রাথমিক প্রবণতা এবং পোস্টাল ব্যালটের গণনা সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বর্তমান বিধায়ক এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের রাজনৈতিক ভাগ্য সম্পর্কে একটি প্রাথমিক আভাস দেবে। একটি অত্যন্ত উত্তাল নির্বাচনী প্রচারণার পর একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য কমিশন পাঁচটি অঞ্চল জুড়ে ২৫০০-এর বেশি গণনা কেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী নিয়ে একটি ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে, শাসক দল টিএমসি পুনরুজ্জীবিত বিরোধী দলের তীব্র চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবে কিনা, সেদিকেই সবার নজর থাকবে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-নেতৃত্বাধীন জোট এআইএডিএমকে-বিজেপি জোটের বিরুদ্ধে তাদের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখতে চাইছে। কেরালা এক ঐতিহাসিক লড়াইয়ের সাক্ষী হচ্ছে, যেখানে এলডিএফ টানা দ্বিতীয়বারের মতো রাজ্যের ‘পর্যায়ক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তর’-এর ঐতিহ্যকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করছে। এদিকে, আসামে তীব্র আঞ্চলিক বিতর্কের মাঝে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ আখ্যানটি অটুট থাকে কি না, তা এই ফলাফলই নির্ধারণ করবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে, নির্বাচন কমিশন তাদের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট এবং ভোটার হেল্পলাইন অ্যাপের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম আপডেট দেবে এবং সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে সব আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৪৮ ঘণ্টার কাউন্টডাউন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্রগুলিতে হাজার হাজার পোলিং এজেন্ট মোতায়েন করেছে এবং এমন একটি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, যাকে অনেক বিশ্লেষক এই দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক রায় বলে অভিহিত করছেন। এখন সকলের দৃষ্টি ইভিএম স্ট্রংরুমের দিকে, যেখানে এই বিশাল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী ২০ কোটিরও বেশি ভোটারের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত রয়েছে।
