গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াই: এসআইআর (SIR)-এর প্রতিবাদে সুদূর ফিনল্যান্ড থেকে বারুইপুরে প্রবাসী গৃহবধূ

গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে সুদূর ফিনল্যান্ড থেকে বারুইপুরে ফিরে এলেন বছর চল্লিশের পাকিজা মণ্ডল। বুধবার রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে তিনি যে লড়াই করলেন, তা এখন বারুইপুরের মানুষের মুখে মুখে। পেশাগত কারণে দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি সপরিবারে ফিনল্যান্ডে বসবাস করেন। তবে এবারের ভোট তাঁর কাছে অন্যবারের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

রাজ্যে এসআইআর (SIR)-এর মাধ্যমে বহু নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ ছিলেন পাকিজা। সহনাগরিকদের নাম বাদ পড়ার খবর তাঁকে মানসিকভাবে পীড়িত করেছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে এবং ব্যালটের মাধ্যমেই তার যথাযথ জবাব দিতে তিনি বদ্ধপরিকর ছিলেন। সেই লক্ষ্য নিয়েই ২৯ এপ্রিলের দিনটিকে টার্গেট করে তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন।

তবে তাঁর এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বিমানের ভাড়ার দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। পাকিজা চেয়েছিলেন স্বামী মোস্তাক আলি মণ্ডল এবং সন্তানসহ পুরো পরিবারকে নিয়ে দেশে ফিরতে। কিন্তু উচ্চমূল্যের টিকিটের কারণে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অগত্যা স্বামী মোস্তাক আলিকে ফিনল্যান্ডেই রেখে, সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

বুধবার সকালে হাসিমুখে বুথের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার পর পাকিজা জানালেন, “যুদ্ধের পরিস্থিতির জন্য বিমান ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছিল, তবুও আমি পিছুপা হইনি। নিজের ভিটেতে ভোট দিতেই হতো। এসআইআর-এর যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার জবাব ইভিএমের বোতাম টিপেই দিতে চেয়েছিলাম।”

পাকিজার এই অদম্য জেদ ও দেশপ্রেমের গল্প এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস। একদিকে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ, অন্যদিকে গণতন্ত্র রক্ষার তাগিদ—এই দুইয়ের সমন্বয়েই তিনি পাড়ি দিয়েছেন কয়েক হাজার মাইল। কেবল ভোট দেওয়ার জন্যই তাঁর এই দীর্ঘ সফর প্রমাণ করে, প্রবাসে থাকলেও দেশের প্রতি, দেশের গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর টান আজও অটুট।