উত্তেজনার চরম শিখরে ইরান: যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার এক সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এবং সিনহুয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার একটি ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশের মাধ্যমে ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবটি ইরানের কাছে পাঠিয়েছিল। তবে ইরান কোনো লিখিত জবাব না দিয়ে বরং রণক্ষেত্রে হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়ে তাদের অনড় অবস্থানের জানান দিয়েছে। মূলত কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক বিধ্বংসী হামলা এবং ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) ও এ-১০ (A-10) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ওয়াশিংটন এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছিল। কিন্তু তেহরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এই অঞ্চলে তাদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ভুল হিসাব কষছে এবং নিজেদের পরাজয় ও ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতেই এই সাময়িক বিরতির পথ খুঁজছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যাতে ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান লাগাতার ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান কোনোভাবেই সমঝোতার পথে হাঁটতে রাজি নয়; বরং তারা তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং মার্কিন আগ্রাসন রুখতে যুদ্ধের ময়দানেই জবাব দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হবে, ততক্ষণ তারা আক্রমণ চালিয়ে যাবে। এই প্রত্যাখ্যানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সকল পথ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল এবং বড় ধরনের আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের আশঙ্কা আরও প্রকট হয়ে উঠল। বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় উভয় পক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বাহিনী চরম সতর্কাবস্থায় রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।