ভোটার তালিকায় গণ-ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে উত্তাল কার্শিয়াং; আইনি লড়াইয়ের আশ্বাস অনীত থাপার

দার্জিলিং পাহাড়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে জনরোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটল। চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার কার্শিয়াংয়ে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। পাহাড়ে এই ইস্যুতে এটিই প্রথম বড়সড় পথ আন্দোলন।

বিক্ষোভকারীরা কার্শিয়াং শহরের মধ্য দিয়ে মিছিল করে এসে মহকুমা শাসকের দপ্তরে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। তাঁদের অভিযোগ, অনেক “আসল ও স্থায়ী ভোটার” কোনো কারণ ছাড়াই তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজে পাচ্ছেন না, যা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং আঞ্চলিক পরিচয়ের ওপর বড় আঘাত। মিছিলের পর এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার (BGPM) সভাপতি অনীত থাপা ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের আশ্বস্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, দলের কাছে নির্বাচনী লড়াইয়ের চেয়ে পাহাড়ের মানুষের পরিচয় রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

থাপা বলেন, “নির্বাচন আসবে এবং যাবে, কিন্তু আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো আমাদের মানুষ, তাঁদের পরিচয় এবং তাঁদের ভোট রক্ষা করা।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই সংকট নিয়ে রাজনীতি করার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। কারণ, যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁরা এখন ভোটই দিতে পারবেন না, তাই এখানে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার কোনো সুযোগ নেই। প্রশাসনিক এই জটিলতা মোকাবিলায় অনীত থাপা ঘোষণা করেছেন যে, বিজিপিএম-এর পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী নাগরিকদের বিনামূল্যে আইনি পরিষেবা প্রদান করা হবে। প্রয়োজনে এই লড়াই হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে থাপা তাঁর দলের সমস্ত নির্বাচিত পঞ্চায়েত এবং পৌর প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁরা যেন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সরিয়ে রেখে পুরোপুরি সাধারণ মানুষকে পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজে সাহায্য করেন। তিনি বলেন, “অনেকে অনলাইনে আবেদন করার পদ্ধতি জানেন না। আমাদের প্রতিনিধিদের কাজ হবে সেই মানুষদের সাহায্য করা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁরা পুনর্বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশনের আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে বিজিপিএম-এর পক্ষ থেকে ‘হেল্প ডেস্ক’ খোলা হয়েছে, যেখান থেকে অনলাইন আবেদন ও নথিপত্রের কাজে সহায়তা করা হচ্ছে।

এই বিক্ষোভ নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা যে, বর্তমান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক মানুষ অনলাইনে নিজেদের স্ট্যাটাস যাচাই করছেন, যার ফলে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।