হলদিয়ায় ৬,০০০ কোটি টাকার পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প! 

পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিশা দেখাচ্ছে হলদিয়ার ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন প্রকল্প। প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই শিল্পপ্রকল্প দেশের পেট্রোকেমিক্যাল ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উৎপাদন ক্ষমতা, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর দিক থেকে প্রকল্পটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যান্টটিতে বছরে প্রায় ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টন ফেনল এবং ২ লক্ষ ১৫ হাজার টন অ্যাসিটোন উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই দুই রাসায়নিকই বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ওষুধ, রং, রেজিন, ল্যামিনেট, আঠা এবং ইলেকট্রনিক্স-সহ একাধিক শিল্পে ফেনল ও অ্যাসিটোনের চাহিদা রয়েছে। এই উৎপাদন কেন্দ্র চালু হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে রাসায়নিকের জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলির কাঁচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। দেশীয় চাহিদা পূরণে ফেনল ও অ্যাসিটোনের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে বিদেশ থেকে এই রাসায়নিক আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি, উৎপাদন ও বাজারের পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। কেন্দ্রের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ধরনের বৃহৎ রাসায়নিক শিল্পপ্রকল্প দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং পেট্রোকেমিক্যাল ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

হলদিয়ার এই প্রকল্পকে ঘিরে কর্মসংস্থান ও আনুষঙ্গিক শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ। প্ল্যান্টের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহণ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ক্ষেত্রে দক্ষ ও অর্ধদক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি, স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলির জন্যও নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার আশা রয়েছে। তবে প্রকল্পটির মাধ্যমে কতগুলি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশিত হলে তার প্রকৃত প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে। বন্দর ও পেট্রোকেমিক্যাল পরিকাঠামোর কারণে হলদিয়া দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র। নতুন এই প্রকল্পের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সফলভাবে এগোলে সংশ্লিষ্ট শিল্পের প্রসার এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

সবমিলিয়ে, ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদনে হলদিয়ার এই বৃহৎ বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে উৎপাদনের প্রকৃত অগ্রগতি, কর্মসংস্থানের পরিমাণ এবং আমদানি হ্রাসে প্রকল্পটির অবদান নির্ভর করবে ভবিষ্যতের উৎপাদন ও বাজারের ফলাফলের ওপর।