নির্বাচনমুখী আসামে প্রচারণার ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেই এক ব্যতিক্রমী রূপে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী চা বাগানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি সরাসরি চা শ্রমিকদের সঙ্গে সময় কাটান। বিশেষ করে নারী চা শ্রমিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক আলাপচারিতা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কেবল চা শ্রমিকদের কর্মপদ্ধতিই পর্যবেক্ষণ করেননি, বরং তাদের জীবনযাত্রার মান এবং দৈনন্দিন সুখ-দুঃখের গল্পও মন দিয়ে শুনেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আসামের চা বলয়ের মানুষের কাছে এক বড় ধরনের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত সহজ-সরল ভঙ্গিতে নারী শ্রমিকদের পাশে বসে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি চা পাতা তোলার প্রক্রিয়া দেখেন এবং নারী কর্মীদের কাজের প্রশংসা করেন। শ্রমিকদের সাথে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী প্রকল্পের সুফল তারা পাচ্ছেন কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, আসামের চা শিল্প কেবল ভারতের নয়, বিশ্বের দরবারে এক অনন্য ব্র্যান্ড, আর এই গৌরবের নেপথ্যে রয়েছে নারী চা শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম। তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আসামের বিধানসভা নির্বাচনে চা শ্রমিকদের ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি যোগাযোগ নারী ভোটারদের মধ্যে বিজেপির অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর আগমনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তারা তাদের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া এবং অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। চা বাগানের সবুজ আবহে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আসামের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
