বিশ্ব যখন ২৬শে জুলাই সারা বিশ্ব যখন ২৬ জুলাই বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস পালন করছে, ঠিক সেই সময় সিগনেচার প্যাকেজড ড্রিংকিং ড্রিঙ্কিং ওয়াটার ওড়িশার আস্তারঙ্গায় টানা তিন বছরের ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরেছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি, স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পরিচালিত উদ্যোগ, যা উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থবহ জীবিকার সুযোগও তৈরি করেছে। গত তিন বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৬২ একরেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় জমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং পাঁচটি উপকূলীয় গ্রামে ৩০,০০০-এ হাজারেরও বেশি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উপলক্ষে ব্র্যান্ডটি ওড়িশায় তাদের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে, এই উদ্যোগকে গোয়াতেও এই উদ্যোগ সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের কাজ যেমন ধারাবাহিকভাবে চলছে, তেমনই সিগনেচার প্যাকেজড ড্রিংকিং ড্রিঙ্কিং ওয়াটার মানুষকে ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার ক্ষেত্রেও নিয়মিত নতুন উদ্যোগ নিয়ে চলেছে। ফ্যাশন, সঙ্গীত গান-বাজনা এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল গেমিংয়ের মতো অংশগ্রহণমূলক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি এমন একটি বাস্তুতন্ত্রকে আরও দৃশ্যমান, সহজে বোঝার মতোসহজবোধ্য এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলতে তোলার চেষ্টা করেরছে, যা সাধারণত মানুষের নজরের বাইরে থেকেই যায়।
ডিয়াজিও ইন্ডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পোর্টফোলিও হেড (মার্কেটিং) অনিন্দিতা দত্ত বলেন,
“উদ্দেশ্য নির্ভর ব্র্যান্ড শুধু মাঠপর্যায়ে কাজ করলেই গড়ে ওঠে না, বরং মানুষকে বোঝাতেও হয় কেন সেই কাজ গুরুত্বপূর্ণ। সিগনেচার প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ড্রিংকিং ওয়াটার ওডিশায় ওড়িশায় ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছে। পাশাপাশি, এই গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্রকে মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতে আমরা নিয়মিত নতুন নতুন উপায় খুঁজে চলেছি। ফ্যাশন, সঙ্গীতগান-বাজনা, অংশগ্রহণমূলক অভিজ্ঞতা বা গেমিং—, যে মাধ্যমই হোক না কেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই— মানুষের চোখের আড়ালে থাকা এই বাস্তুতন্ত্রকে আরও দৃশ্যমান, সহজে বোঝার মতোসহজবোধ্য এবং সংরক্ষণের যোগ্য করে তোলা।” এই যাত্রার সূচনা হয় টেকসই জীবনধারাভিত্তিক ব্র্যান্ড থাইলি-এর সঙ্গে নেওয়া একটি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে। এই উদ্যোগে পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি সীমিত সংস্করণের লিমিটেড এডিশনের একটি সংগ্রহ কালেকশন প্রকাশ লঞ্চ করা হয়, যার মধ্যে ছিল টি-শার্ট, বাকেট হ্যাট এবং ফ্যানি প্যাক। এই পণ্যগুলিতে ওডিশার ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চিত্রশিল্পী শান্তনু হাজারিকা-র ওড়িশার ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা শিল্পকর্ম ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি পণ্য বিক্রির আয়ের একটি অংশ ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার প্রকল্পে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে ক্রেতারাও সরাসরি এই পুনরুদ্ধার উদ্যোগে অবদান রাখতে পারেন।
এরপর এই উদ্যোগটি ‘রুট ফর ম্যানগ্রোভস’ নামে এক অভিনব কনসার্ট সিরিজের মাধ্যমে সঙ্গীতের জগতেও পৌঁছে যায়। এই ধরনের এটি এই ধরনের ছিল প্রথম উদ্যোগ। এই কনসার্টের প্রতিটি টিকিট ৫০ টাকা থেকে বিক্রি থেকে শুরু করে বিক্রি করা হয়, যা সরাসরি ওড়িশায় চলা ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের কাজে দিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে লাইভ বিনোদন শুধু বার্তা দেওয়ার মাধ্যম না হয়ে, মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে। এই সাংস্কৃতিক উদ্যোগগুলির পাশাপাশি, সিগনেচার প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ড্রিংকিং ওয়াটার ওড়িশার আস্তারঙ্গায় অবস্থিত ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার পুনরুদ্ধারের এই জায়গায় স্থানে নিয়মিত ভ্রমণেরও আয়োজন ব্যবস্থা করে আসছে। এর মাধ্যমে মানুষ সরাসরি এই বাস্তুতন্ত্র এবং পুনরুদ্ধারের পুরো প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। তারা ব্র্যান্ডের প্রচারে উঠে আসা উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখছেন, এই কাজে যুক্ত স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন এবং মাঠপর্যায়ে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের কাজ কীভাবে হয়, তা সরাসরি বুঝতে পারছেন।
এ বছর বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে ব্র্যান্ডটি একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল গেম চালু করছে। এর লক্ষ্য হলো উপকূল ও জোয়ার-ভাটার কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন হুমকি ঝুঁকি থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করতে ম্যানগ্রোভের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি তরুণ প্রজন্মের কাছে তাদের প্রতিদিনের ব্যবহৃত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই মধ্য দিয়েই পৌঁছাতে চায়। ওড়িশায় সফলভাবে কাজ করার পর, সিগনেচার প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ড্রিংকিং ওয়াটার এবার গোয়ার একটি নতুন উপকূলীয় এলাকায় তাদের ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার উদ্যোগ শুরু করার পরিকল্পনা করছে। গত তিন বছর ধরে যে লক্ষ্য নিয়ে ব্র্যান্ডটি কাজ করে আসছে, সেই একই লক্ষ্য নিয়েই তারা এগোতে চায়—ম্যানগ্রোভের বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা এবং এই বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় কাজ করা স্থানীয় মানুষের পাশে থাকা।
