ভোটের দিন আবহাওয়ার দুই রূপ: দক্ষিণে তীব্র দহন, উত্তরে বৃষ্টির পূর্বাভাস

রাজ্যে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মোট ১৬টি জেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি ভোটারদের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভোটের দিন দক্ষিণবঙ্গের ছয় জেলায় চরম অস্বস্তিকর গরম বজায় থাকবে, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে হতে পারে ঝড়বৃষ্টি।

দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি এখন বেশ উদ্বেগজনক। আগামী সাত দিন তাপমাত্রার বিশেষ কোনো হেরফের হবে না বলে জানানো হয়েছে। উল্টে পশ্চিমের জেলাগুলোতে পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার যখন পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমের মানুষ বুথমুখী হবেন, তখন তাঁদের সঙ্গী হবে প্রখর রোদ আর লু। এই ছয় জেলাতেই গরমের জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। জঙ্গলমহলের তেতেপুড়ে ওঠা মাটিতে প্রচারের পর ভোটের দিনও প্রার্থীদের জন্য কোনো স্বস্তির খবর নেই।

তবে সপ্তাহান্তে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় কিছুটা বদল আসতে পারে। শুক্রবার থেকে পশ্চিমের জেলাগুলোতে হালকা বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এই পরিস্থিতির আরও বিস্তার ঘটবে। পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, রবি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই কালবৈশাখীর দেখা মিলতে পারে। ঝড়ের গতিবেগ কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ছুঁতে পারে। যদিও এই ঝড়ে দহনজ্বালা পুরোপুরি কমবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের মতো জেলাগুলোতে ভোট দিতে গিয়ে ভোটারদের ছাতা বা রেইনকোট সাথে রাখতে হতে পারে। উত্তরবঙ্গের আট জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির ভ্রুকুটি রয়েছে। মূলত পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও স্থানীয় ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলায় উত্তরের পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রথম দফার এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনে একদিকে যেমন রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ হবে, অন্যদিকে তেমনই ভোটারদের লড়তে হবে প্রকৃতির চরম পরিস্থিতির সাথে। একদিকে দক্ষিণের ঘাম আর উত্তাপ, অন্যদিকে উত্তরের বৃষ্টি—এই দুই বৈপরীত্যের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হতে চলেছে বাংলার গণতন্ত্রের উৎসব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুথগুলোতে পর্যাপ্ত পানীয় জল ও ওআরএস-এর (ORS) ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে ভোটাররা অসুস্থ না হয়ে পড়েন।