বারুইপুরের ‘অভি*শপ্ত’ পুকুর থেকে ফের উদ্ধার দে*হ

বারুইপুরের ধপধপি এলাকায় একটি পুকুর থেকে ফের এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নাবালিকার দেহ উদ্ধারের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই পুকুর থেকে উদ্ধার হয় আরেক ব্যক্তির দেহ। ফলে দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বারুইপুর থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণকান্ত হালদার নামে এক ব্যক্তি গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পর পুকুরে তল্লাশি চালানোর সময় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদেহটি শনাক্ত করেন। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, রবিবার সকালে একই পুকুর থেকে এক নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর ধপধপি এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর খুন করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী মৃতদেহ রেখে রাস্তা অবরোধ করেন এবং রেল অবরোধেও সামিল হন।

ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে আনন্দ সর্দার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তিনিই এই মামলার মূল অভিযুক্ত। তাঁকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। জেরার মাধ্যমে এই অপরাধে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, নাবালিকার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের ইঙ্গিত মিলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্যাতনের পর ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের আশা, ফরেনসিক রিপোর্ট ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে মামলার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে।