ছয়টি রাজ্যের শতাধিক ডেইরি ফার্মে পশুকল্যাণ ও জনস্বাস্থ্যের চরম অবনতির চিত্র প্রকাশ্যে

চণ্ডীগড়, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তিশগড়ের ডেয়ারি ফার্মগুলির ওপর প্রথমবার পরিচালিত এক দেশীয় তদন্তের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘সেন্টিয়েন্ট ওয়ার্ল্ড’। গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে ১০০টিরও বেশি ডেয়ারি ইউনিটে চালিত এই তদন্তে ব্যাপক পশুকল্যামূলক লঙ্ঘন, জনস্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণের গুরুতর চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই অব্যবস্থাপনাগুলি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, বরং নিয়মিত ও পদ্ধতিগত সমস্যা। অধিকাংশ খামারেই গবাদি পশুকে গাদাগাদি করে রাখা এবং দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখার মতো নিষ্ঠুর প্রথা প্রচলিত রয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে গবাদি পশুকে ডাবল বা ট্রিপল ট্যারিং করা হয়। তদন্তকারীরা পুষ্টিহীনতা, ক্ষতচিহ্ন, ত্বকের সংক্রমণ এবং পশুর চরম শারীরিক কষ্টের মতো নানা প্রমাণ পেয়েছেন।

এছাড়া, ৯০ শতাংশ ডেয়ারি ইউনিটে অক্সিটোসিন হরমোনের ব্যবহার এবং দুধের পরিমাণ বাড়াতে ‘খাল বাচ্চা’ প্রথার মতো অমানবিক পদ্ধতি ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপরও এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বহু ডেয়ারি ফার্ম আবাসিক এলাকা এবং জলাশয়ের ১০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে গড়ে উঠেছে, যেখান থেকে অপরিশোধিত গোবর ও বর্জ্য পদার্থ সরাসরি নর্দমায় ফেলা হচ্ছে। খোলা নর্দমা বা ময়লার পাশেই দুধ দোহন করা হয় এবং খোলা পাত্রে দুধ সংরক্ষণ করা হয়। খামারগুলির এই বেহাল দশার পাশাপাশি পশুচিকিৎসার অভাব, কৃষকদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ঘাটতি এবং আইনের শিথিল প্রয়োগের ছবিও এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেন্টিয়েন্ট ওয়ার্ল্ডের সিইও অভিষেক পাণ্ডে বলেন, “এই তদন্ত প্রমাণ করে যে পশুককল্যাণ ও অস্বাস্থ্যকর ডেয়ারি প্রথার অবক্ষয় কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা একটি গভীর সমস্যা।

পশুকল্যাণ, জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের মান রক্ষায় বিদ্যমান আইনগুলির কঠোর প্রয়োগ, নজরদারি এবং জবাবদিহিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।” এই রিপোর্টের পর সেন্টিয়েন্ট ওয়ার্ল্ড ডেয়ারি খামারগুলিতে নিয়মিত পরিদর্শন, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং কৃষকদের জন্য উন্নত পশুচিকিৎসা সহায়তার জোরালো দাবি জানিয়েছে।

তদন্তের ভিডিও দেখুন ভিডিও ১: https://youtu.be/8G-YPiSSPbE ও ভিডিও ২: https://youtu.be/es7xD-IpAII এই ওয়েবসাইটে গিয়ে।