চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে ৩৫ বছরেও উন্নয়ন নেই, বাড়ছে যাত্রী হয়রানি

নির্মল চক্রবর্তী, বাংলাদেশ;  ১৯৭১ সালের ১৬  ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভ করে আজকের বাংলাদেশ। আগে ছিল প্রায় ২০০০ কিলোমিটারের অধীন পশ্চিম পাকিস্তানের একটি অংশ। অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বুড়িমারী ও ভারতের চ্যাংরা বান্দা স্থলবন্দরের বয়স বেড়েছে। বাড়েনি আন্ত জনসভা। স্ক্যানিংয়ের নামে চলছে  দুই পারের যাত্রা হয়রানি।  

চ্যাংড়াবান্ধা ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার সাহা গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্থলবন্দরের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে স্থলবন্দরের সামগ্রিক সমস্যাগুলি সমাধানের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি   চিঠির অনুলিপি কোচবিহারের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরও দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য জানা যায়নি।

এবিষয়ে ক্ষোভের সঙ্গে অজয় কুমার সাহা জানান, চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরের সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার কর্মজীবী মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে চালক, শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। বাংলাদেশের বুড়িমারী স্থলবন্দরেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে বুড়িমারী স্থলবন্দরের বন্ধু ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শামীম হোসেন অজয় কুমার সাহার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তাঁর বক্তব্য, বিমানে যাত্রী ও মালামাল পরীক্ষার জন্য যেমন স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনই স্থলবন্দরেও আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু করা হলে যাত্রী হয়রানি কমবে এবং স্থলবন্দরগুলি আরও যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠবে।

অজয় কুমার সাহা  আরো বলেন, এক্সপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সাল থেকে প্রায় ৩৫ বছর ধরে চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে কোনও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। তিনি জানান, ২০২৬ সালে কংগ্রেস সরকারের বাণিজ্য দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জয়রাম রমেশ চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসেছিলেন। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনা করে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করে যান বলেও দাবি তাঁর। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে উল্লিখিত সমস্যাগুলির সমাধানের দাবিতে তাঁদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে যায়। সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়। প্রতিনিধি দলকে দ্রুত দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানান অজয় কুমার।

প্রসঙ্গত, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের ১৫ বছরের সময়ে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ায় এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে স্থলবন্দরের প্রস্তাবিত উন্নয়নমূলক কাজ থমকে রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু উন্নয়নের গতিপথ থেমে যায়।’’ তবে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে বিজেপি সরকার কেন্দ্র ও রাজ্যে রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে আর কোনও সমস্যা থাকার কথা নয় বলে তিনি মনে করেন। তবে স্থলবন্দরকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সমস্যার একদিনে সমাধান সম্ভব নয়। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই বর্তমান ব্যবসায়িক সমস্যা এবং জনজীবনের প্রত্যাশার বিষয়গুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার সাহা আরও বলেন, ভারত ও ভুটান থেকে নিয়মিত বাংলাদেশে পাথর রফতানি হয়। তবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কিত বেশ কিছু সমস্যার কারণে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আগের তুলনায় পাথর রপ্তানি কমেছে। এর ফলে সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ী মহল।

তাঁর দাবি, চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে দ্রুত স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করা হলে যাত্রীদের হয়রানি অনেকটাই কমবে এবং সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা আরও সহজ হবে। স্থলবন্দরের আধিকারিকদের সঙ্গে সমস্যার সমাধানের জন্য বারবার যোগাযোগ করেও এখনও কোনও ফল মেলেনি বলে অভিযোগ তাঁর।

অজয় সাহা বলেন, স্থলবন্দরের সমস্যার বিষয়টি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকেও জানানো হয়েছে। তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থলবন্দরের সমস্যাগুলি কেন্দ্রীয় সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। এরপর তাঁদের আর কী করার থাকতে পারে, সেই প্রশ্নও তোলেন অজয় সাহা।