অসম্পূর্ণ ভারত সফর, দেশে ফিরলেন উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহর জোরালো তৎপরতা সত্ত্বেও দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই ফিরে যেতে হয় বাংলাদেশের মুখ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জোট আইওআরএ-র  ‘কমিটি অফ সিনিয়র অফিসিয়ালস’-এর ২৮তম বৈঠকে অংশ নিতে রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লি পৌঁছে ছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। দিল্লি বিমানবন্দরে জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে তৈরি হওয়া অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, প্রতিনিধি দলের সফরসূচি সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিলেন তিনি। সেই কারণেই জাহেদ উর রহমানের দিল্লি পৌঁছানোর আগেই বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেন।

ইমিগ্রেশন পর্যায়ে জাহেদ উর রহমানকে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে হলে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। তিনি সরাসরি ভারতীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কূটনৈতিক স্তরে তৎপরতা চালান।  সূত্রের মতে, কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই অনিশ্চয়তার সময়ে জাহেদ উর রহমানের পাশে থেকে নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজখবর রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই শেষ পর্যন্ত সমস্ত নথিপত্র যাচাই সম্পন্ন হয় এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জাহেদ উর রহমানকে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি প্রতিবাদস্বরূপ বিমানবন্দর থেকেই কলম্ব হয়ে বাংলাদেশে ফিরে যান।

সাধারণত সার্কভুক্ত দেশগুলির প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে সার্ক স্টিকার থাকলে সদস্য রাষ্ট্রগুলিতে যাতায়াতের প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হয়। তবে জাহেদ উর রহমানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কারণে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া বিমানবন্দরের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি বলে সূত্রের দাবি। একই সঙ্গে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, একজন মুখ্য উপদেষ্টা হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেননি। যদিও পরে বাংলাদেশে ফিরে এক সাক্ষাৎকারে জাহেদ উর রহমান জানান, বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল।

বাংলাদেশে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনার বিবরণ দেন জাহেদ উর রহমান। বিশেষ করে দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহর নিবিড় তদারকি ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। জাহেদ উর রহমানের দাবি, সমস্ত নথিপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিমানবন্দরে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও হয়রানির প্রতিবাদে তিনি সেই অনুমতি গ্রহণ না করে সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন এবং বাংলাদেশে ফিরে আসেন। পাশাপাশি তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে তিনি অবশ্যই আবার ভারত সফরে আসবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।