ছাদেই তৈরি বিদ্যুৎ, মহিনগরে বছরে সাশ্রয় প্রায় ₹২১ হাজার

মহিনগরের বাসিন্দা তুষ্টপদ নস্করের বাড়ির ছাদে বসানো ২ কিলোওয়াটের রুফটপ সোলার সিস্টেম থেকে মাত্র ২৭ দিনে ১৭০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া এই ব্যবস্থার জেরে পরিবারটির বছরে প্রায় ₹২১ হাজার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হতে পারে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার (WBSEDCL) দক্ষিণ বিভাগ এই ইনস্টলেশনটিকে একটি আদর্শ ও অত্যন্ত কার্যকর মডেল হিসেবে তুলে ধরে।
প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনার আওতায় স্থানীয় কানাড়া ব্যাংক থেকে ₹৭৮ হাজার টাকা ঋণ পেয়ে নিজের বাড়িতে এই সোলার বসিয়েছেন তুষ্টপদবাবু। ব্যাংকের মহিনগর শাখার ম্যানেজার শ্রীমতী মিত্রা দাস জানান, ভালো সিবিল স্কোর থাকলে সহজেই এই প্রকল্পের ঋণ মিলছে এবং মানুষের আগ্রহও বাড়ছে। তুষ্টপদবাবুর কথায়, “আগে চড়া বিলের দুশ্চিন্তা থাকলেও এখন সৌরশক্তিতে বাড়ি চলতে দেখে ও মিটার উল্টো ঘুরতে দেখে বড় স্বস্তি মিলছে।”
শহরতলির বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির নিখুঁত প্রয়োগ অপরিহার্য। এই বিষয়ে ইনোভেল সোলারের সিইও পার্থপি চট্টোপাধ্যায় জানান, কাজের গুণগত মান এবং গ্রাহক সন্তুষ্টিই তাঁদের মূল চালিকাশক্তি।
“আমাদের কাছে কাজের আপসহীন গুণমান, পরিকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক পরিষেবাই টেকসই সৌরবিদ্যুৎ প্রসারের মূল ভিত্তি,” বলেন ইনোভেল সোলারের সিইও পার্থপি চট্টোপাধ্যায়। “শুধু প্যানেল বসিয়ে দিলেই সর্বোচ্চ ফল মেলে না; ছাদের কাঠামোগত ও অবস্থানগত উপযোগিতা যাচাই, প্যানেলের সঠিক কোণ নির্ধারণ, মানসম্মত ইনভার্টার এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ ওয়্যারিং, প্রতিটি ধাপেই কারিগরি নিখুঁতভাব বজায় রাখা জরুরি।”
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শহর ও শহরতলির সাধারণ বাড়িগুলিতে এমন সফল ছোট মাপের প্রকল্প প্রচলিত গ্রিডের উপর চাপ কমাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা নেবে।