ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন ক্যাটাগরিতে ফ্লিপকার্টের ৫০% প্রবৃদ্ধি, ফুড কমার্সের নতুন সংজ্ঞা লিখছে জেন-জি এবং ‘ভারত’

•        জেন-জি এবং ‘ভারত’ যৌথভাবে ভারতের খাদ্য-বাজারের রূপান্তর ঘটাচ্ছে; যার ফলে স্বাস্থ্যকর, প্রিমিয়াম এবং নতুন স্বাদের পণ্য আবিষ্কারের আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে তৈরি খাদ্য ব্যবহারের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

•        ফ্লিপকার্টের কুইক-কমার্স পরিষেবা ‘ফ্লিপকার্ট মিনিটস’ এই ক্যাটাগরির মোট চাহিদার ২৫% পূরণ করছে। অন্যদিকে, মোট চাহিদার ৬৫% আসছে টায়ার ২ এবং তার পরবর্তী টায়ার ২+ ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চল থেকে, যা পুরো ভারত জুড়ে আধুনিক পছন্দের খাদ্য গ্রহণের ক্রমবর্ধমান হারকেই তুলে ধরে।

•        ফুড ফেস্ট ৩.০-তে ৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড, ১,০০০-এর বেশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, নামী শেফ এবং বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্বরা একসঙ্গে শামিল হয়েছিলেন, যাতে ফুড কমার্স বা খাদ্য বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ রূপটি সবার সামনে তুলে ধরা যায়।

ভারতের নিজস্ব ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস ‘ফ্লিপকার্ট’ আজ ঘোষণা করেছে যে, তাদের ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন ক্যাটাগরিতে ইয়ার-অন-ইয়ার ৫০% প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। এই অভাবনীয় বৃদ্ধির পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে জেন-জি প্রজন্ম এবং ধুলিয়া, ইম্ফল, ধরওয়াদ, উজ্জয়িনী, হুবলি, মিরগঞ্জ ও লাহরপুরের মতো টায়ার ২ ও টায়ার ২+ শহরের ক্রেতারা। কুইক-কমার্স এক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে, যেখানে ফ্লিপকার্টের নিজস্ব পরিষেবা ‘ফ্লিপকার্ট মিনিটস’-এর মোট চাহিদার ২৫% অবদান রয়েছে। তরুণ ভোক্তারা বিভিন্ন রেসিপি, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের পরামর্শ এবং ওয়েলনেস ট্রেন্ডের মাধ্যমে নতুন নতুন খাবারের সন্ধান পাচ্ছেন। পাশাপাশি মেট্রো সিটির বাইরের ক্রেতারাও এখন ক্রমশ স্বাস্থ্যকর রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও আধুনিক পুষ্টিজাত পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন, যা এই গতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে ‘ফ্লিপকার্ট ফুড ফেস্ট ২০২৬’-এর তৃতীয় এডিশনে, যেখানে ৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড এবং ১,০০০-এর বেশি ক্রিয়েটর ও তারকা শেফ (যার মধ্যে রয়েছেন ফারাহ খান, শেফ কুনাল কাপুর এবং শেফ রণবীর ব্রার) একসঙ্গে হাজির হয়ে খাদ্য বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ রূপটি তুলে ধরেন।

পরিবর্তনশীল কনজিউমার প্লেট: হেলথ-ফার্স্ট জীবনযাত্রার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ

জেন-জি ক্রেতারা এখন বার্ষিক ভিত্তিতে ৬০% প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করছে। তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে প্রোটিন ওটস, হাই-প্রোটিন পিনাট বাটার, গরমেট চকলেট এবং প্রোটিন মিউসলির মতো ক্যাটাগরি। অন্যদিকে বেঙ্গালুরু এবং নয়াদিল্লির মতো শহুরে কেন্দ্রর চাহিদার ওপর নির্ভর করে কোরিয়ান-ফ্লেভারের স্ন্যাক্স যেমন, কাপ নুডলস এবং চিপস অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল ক্যাটাগরি হিসেবে বাজারে আসছে। পুরুষ গ্রাহকরা মূলত বাদাম ও ড্রাই ফ্রুটস, চকলেট এবং জ্যাম ও স্প্রেড-এর চাহিদা বাড়াচ্ছেন; বিপরীতে মহিলা গ্রাহকরা তাদের শপিং বাস্কেটে ভ্যালু-অ্যাডেড চা, কফি এবং এডিবল সিডস যুক্ত করছেন। এর ফলে ফাংশনাল নিউট্রিশন, প্রিমিয়াম স্ন্যাকিং এবং দৈনন্দিন স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক পণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘ভারত’-এর টায়ার ২ ও টায়ার ৩ শহরের ক্রেতারা এখন আরও স্বাস্থ্যকর বিকল্পের সন্ধান করছেন; যার ফলে কোল্ড-প্রেসড অয়েল, অলিভ অয়েল, প্রোটিন ওটস, প্রোটিন মিউসলি, প্রিমিয়াম ড্রাই ফ্রুটস, খাঁটি ঘি এবং খেজুরের মতো পণ্যের বিক্রি ও জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত এক বছরে এই ধরনের পণ্য অনুসন্ধানের সংখ্যা ৮০% বেড়েছে, যা ভারতের টায়ার ২ এবং টায়ার ৩ শহরগুলোর ক্রেতাদের মধ্যে আগাম স্বাস্থ্য সচেতনতার দিকে নজর দেওয়ার মানসিকতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

ফ্লিপকার্ট-এর কনজিউমেবলস (এফএমসিজি এবং জেনারেল মার্চেন্ডাইজ) বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিশান্ত দালাল বলেন, “ভারতে খাবার এখন আর কেবলই একটি বাঁধাধরা রুটিনে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ক্রমশ সুস্বাস্থ্য, নিজস্ব পরিচিতি এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের বহিঃপ্রকাশ হয়ে উঠছে। মেট্রো শহরগুলোর পাশাপাশি ‘ভারত’-এর ক্রেতারাও এখন কী খাচ্ছেন সে বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আর ডিজিটাল কমার্স বা অনলাইন বাণিজ্য আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক পরিবারের কাছে এই উন্নত ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ পৌঁছে দিচ্ছে। ফ্লিপকার্ট-এ আমরা এমন একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করছি, যেখানে সব ধরনের ব্র্যান্ড বড় হওয়ার সুযোগ পাবে, কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা নতুন পণ্য আবিষ্কারে অনুপ্রেরণা দিতে পারবেন এবং ক্রেতারাও তাদের পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই পণ্যগুলো নিশ্চিন্তে পরখ করে দেখতে পারবেন।”

ফুড ফেস্ট ৩.০: ভারতের খাদ্য বিবর্তনের যাত্রায় এক মহোৎসব

এই ট্রেন্ডকে বাস্তবে পরিণত করতে, এই ইভেন্টে ৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ব্র্যান্ড, ১,০০০-এরও বেশি ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার এবং ফারাহ খান, শেফ কুনাল কাপুর, শেফ রণবীর ব্রার, সুনীল গ্রোভার, গৌরব কাপুর, আদিত্য কুলশ্রেষ্ঠ ও বংশিকা খুরানার মতো খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বকে একসঙ্গে আনা হয়েছিল। দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে ১০টিরও বেশি নতুন পণ্য লঞ্চ করা হয়। এছাড়া, ব্র্যান্ডগুলোর আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা প্রদান এবং চকোল্যান্ড, ব্রেকফাস্ট জোন, গরমেট, বেভারেজ ও কিচেন স্ট্যাপলস-এর মতো বিশেষভাবে সাজানো এলাকাও রাখা হয়। হ্যাপিলো, অন্বেষণ, ফার্মলি, ফেরেরো রশার, আইটিসি-র রাইট শিফট, ইয়োগাবার, ওয়ান্ডারল্যান্ড, কেলগস, লাভইট, অ্যালপিনো এবং সুগারফ্রি ডি’লাইটের মতো ব্র্যান্ডগুলো তাদের নতুন পণ্য বাজারে আনে। পাশাপাশি মন্ডেলেজ, টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস, ডাবর, ফরচুন এবং মাইফিটনেস-এর মতো শীর্ষস্থানীয় এফএমসিজি কোম্পানিগুলো উদীয়মান ডিটুসি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শন করে।

গত ৭ এবং ৮ জুলাই অন-গ্রাউন্ড জমকালো উদযাপনের মধ্য দিয়ে ‘ফ্লিপকার্ট ফুড ফেস্ট’ শুরু হয়। এরপর ৭ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ফ্লিপকার্ট অ্যাপে একটি বিশেষ সেল ফেস্টিভালের আয়োজন করা হয়েছে; যেখানে পুরো ‘ভারত’-এর টায়ার ২ ও টায়ার ৩ শহর-এর ক্রেতাদের জন্য সীমিত সময়ের অফার, বিশেষ কালেকশন এবং চমৎকার সব নতুন ব্র্যান্ডের পণ্য লঞ্চয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফ্লিপকার্ট গ্রুপ সম্পর্কে

শক্তিশালী প্রযুক্তি-নির্ভর ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ‘ফ্লিপকার্ট গ্রুপ’ ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান। এই গ্রুপের আওতাধীন কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফ্লিপকার্ট, মিন্ত্রা, ফ্লিপকার্ট হোলসেল, ক্লিয়ারট্রিপ এবং সুপার.মানি। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ফ্লিপকার্ট, ভারতের ডিজিটাল কমার্স বিপ্লবে অংশ নেওয়ার জন্য দেশের লক্ষ লক্ষ বিক্রেতা, ব্যবসায়ী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগকে সমর্থন করে তাদের সক্ষম করে তুলেছে। ৫০০ মিলিয়নের বেশি রেজিস্টার্ড ইউজার নিয়ে ফ্লিপকার্ট মার্কেটপ্লেস ৮০টিরও বেশি ক্যাটাগরিতে ১৫০ মিলিয়নেরও বেশি পণ্য সরবরাহ করে থাকে। বর্তমানে এই প্ল্যাটফর্মে ‘শপসি’ বিক্রেতাদের সহ ১.৪ মিলিয়নেরও বেশি বিক্রেতা যুক্ত রয়েছেন। প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে সঠিক মূল্য ও গুণগত মান নিশ্চিত করে প্রতিটি ভারতীয়র ক্ষমতায়নে ও তাদের সন্তুষ্ট করার লক্ষ্য নিয়ে ফ্লিপকার্ট ক্যাশ অন ডেলিভারি, নো কস্ট ইএমআই, ইজি রিটার্নস এবং ইউপিআই পেমেন্টের মতো পরিষেবাগুলোর সূচনা করেছে। কেবল কেনাকাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, ফ্লিপকার্ট প্রতিনিয়ত নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে, উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন করছে এবং ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।

আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে media@flipkart.com -এ যোগাযোগ করুন।