রাজগঞ্জে বিপুল মদ ও সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত, অভিযুক্ত পলাতক

জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানা অন্তর্গত বেলাকোবা ফাঁড়ির পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে এক গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে বড়সড় অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ দেশি মদের (চোলাই) ঠেক ও কারখানা ধ্বংস করেছে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ এবং মদ তৈরির সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল অভিযুক্ত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পুলিশের অতর্কিত হানা ও অভিযুক্তের পলায়ন

আসল ঘটনা: বেলাকোবা পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (OC) সাব-ইন্সপেক্টর বুদ্ধদেব ঘোষ আজ সকালে প্রায় ৮:৩০টা নাগাদ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে অবৈধ মদ তৈরির খবর পান। খবর পাওয়া মাত্রই এএসআই বিশ্বজিৎ মহান্ত, পুলিশ বাহিনী এবং সিভিএফ (CVFs) কর্মীদের সাথে নিয়ে রাজগঞ্জ থানার ফুতকিপাড়া পোস্টের অন্তর্গত ডালুয়া এলাকার বাসিন্দা সঞ্জিত রায়ের বাড়িতে অতর্কিত অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানো মাত্রই অভিযুক্ত সঞ্জিত রায়কে নিজের বাড়ির ভেতর অবৈধভাবে চোলাই মদ তৈরি করা অবস্থায় হাতেনাতে ধরা হয়। কিন্তু পুলিশকে দেখামাত্রই বাড়ির পেছনে থাকা ঘন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত সঞ্জিত রায় সেখান থেকে চম্পট দেয়। পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।

বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ ও সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত

পলাতক অভিযুক্তের বাড়ি এবং সংলগ্ন চত্বরে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালিয়ে মদ তৈরির একটি বড়সড় পরিকাঠামো উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে:

০২টি সম্পূর্ণ সেটআপ: মদ তৈরির কাজে ব্যবহৃত ০৪টি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি এবং ০২টি ফানেল।

কাঁচামাল: প্রায় ৫০ কেজি ইস্ট (মদ তৈরির মশলা বা বাখর)।

তৈরি মদ: প্রায় ৫০ লিটার সদ্য প্রস্তুত করা অবৈধ দেশি চোলাই মদ।

১,০০০ লিটার গাঁজানো তরল (লাহান) ঘটনাস্থলেই নষ্ট

তল্লাশিকালে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ০৫টি বড় প্লাস্টিকের জার উদ্ধার করে পুলিশ। এই জারগুলির ভেতরে মদ তৈরির জন্য প্রায় ১,০০০ লিটার ফারমেন্টেড ওয়াশ বা লাহান (পচানো তরল) মজুত করে রাখা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া মেনে পুলিশ সেই সমস্ত অবৈধ তরল ঘটনাস্থলেই নষ্ট (Destroy) করে দেয়। অভিযুক্ত সঞ্জিত রায়ের বিরুদ্ধে ‘বেঙ্গল এক্সাইজ অ্যাক্ট’ (Bengal Excise Act)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করার জন্য বেলাকোবা পুলিশের পক্ষ থেকে রাজগঞ্জ থানার আইসি (IC)-র কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।