ঋণকে এখন শেষ আশ্রয় নয়, আর্থিক হাতিয়ার ভাবছে যুবসমাজ

ভারতের ব্যক্তিগত ঋণ ব্যবস্থা দ্রুত বদলাচ্ছে। একে পরিচালনা করছে এআই-চালিত আন্ডাররাইটিং পদ্ধতি। নতুন প্রজন্মের ঋণগ্রহীতারা এখন ঋণকে শেষ উপায় মনে করেন না। তারা ঋণকে একটি কার্যকর আর্থিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ভারতে ব্যক্তিগত ঋণের চিত্রটি এখন সম্পূর্ণ আলাদা। একসময় মানুষ কেবল জরুরি বা সংকটের সময় ঋণ নিত। বর্তমানে জীবনযাত্রার চাহিদা মেটাতে পরিকল্পিতভাবে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। তরুণ ও ধনী ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। তারা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ অক্ষুণ্ণ রেখে কৌশলগতভাবে ঋণ গ্রহণ করছেন। কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের পার্সোনাল লোন বিভাগের বিজনেস হেড অমিত পাঠকের মতে, “এই রূপান্তরটি দুটি সমান্তরাল ধারার মাধ্যমে চালিত হচ্ছে: ঋণগ্রহীতার আচরণ পরিবর্তন এবং এআই-চালিত আন্ডাররাইটিংয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার। গ্রাহকদের প্রত্যাশা যখন দ্রুত, সহজ এবং নমনীয় ঋণের দিকে ঝুঁকছে, তখন ব্যাংকগুলো একই সঙ্গে আরও বুদ্ধিমানভাবে ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রতারণা সনাক্তকরণের পেছনে বিনিয়োগ করছে।”

অভিজ্ঞতাভিত্তিক ঋণের চাহিদা এখন দ্রুত বাড়ছে। জেন জি এবং প্রথমবার উপার্জন করছেন এমন তরুণরা ভ্রমণ ও বিয়ের মতো খরচের জন্য ঋণ নিচ্ছেন। আগের প্রজন্ম ঋণকে ভয় পেলেও তরুণরা একে ভবিষ্যৎ আয়ের সঙ্গে বর্তমানের মেলবন্ধন হিসেবে দেখছেন। মানুষ এখন ঋণ পরিশোধের শৃঙ্খলা ও ঠিকঠাক ক্রেডিট স্কোর বজায় রাখার বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। ঋণের চাহিদা বাড়লেও পরিশোধের হার খারাপ হচ্ছে না। আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মানুষ অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলছেন। ব্যাংকগুলো এখন এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ঋণ মূল্যায়ন করছে। ঋণ প্রক্রিয়া ডিজিটাল হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক দ্রুত ও নিরাপদ হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলো শুধু এআই-এর ওপর নির্ভর না করে মানুষের তদারকিও বজায় রাখছে। ছোট ছোট দলের ওপর মডেলগুলো পরীক্ষা করে তবেই তা বৃহত্তর পরিসরে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এআইয়ের মাধ্যমে বড় পরিসরের ডেটা বিশ্লেষণ করা সহজ হয়েছে। এর ফলে ঝুঁকি মূল্যায়ন নিখুঁত হচ্ছে এবং ঋণ খেলাপি হওয়ার সম্ভাবনা কমছে। ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়পক্ষই এর মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে। ধনী গ্রাহকরা এখন স্বল্পমেয়াদী নগদ প্রয়োজনে ক্রেডিট লাইন ব্যবহার করছেন। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ভেঙে ফেলার বদলে তারা ফ্লেক্সিবল ক্রেডিট প্রোডাক্ট বেছে নিচ্ছেন। ঋণকে এখন আর আর্থিক সংকটের লক্ষণ হিসেবে দেখা হয় না, বরং এটি স্মার্ট আর্থিক পরিকল্পনার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।