তিস্তা স্টেজ-৬ সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনা: উদ্ধার অভিযান শেষ, মিলল ২৫ শ্রমিকের মরদেহ

সিকিমের নামচির সমরদুঙ এলাকায় এনএইচপিসির তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।বৃহস্পতিবার নর্থ বেঙ্গলের আইজি সুকেশ জৈন জানান,উদ্ধারকারী দল মোট ২৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ১১জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ও সকলের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।ইতিমধ্যেই ৭জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।আইজি সুকেশ জৈন বলেন,গত দু’দিন ধরে উদ্ধারকারী দল শুধুমাত্র উদ্ধারকাজ নয়,নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা,মৃতদেহ শনাক্তকরণ,ময়নাতদন্ত সহ মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার মতো সমস্ত দায়িত্ব সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করেছে।তাঁর কথায়,”আজ পুরো অপারেশন সম্পূর্ণ হয়েছে।”এদিন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং (গোলে)।তিনি উদ্ধারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন।মুখ্যমন্ত্রী জানান,দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে ও ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়,সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।উল্লেখ্য,সোমবার নির্মীয়মাণ প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গে মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের পর ব্যাপক ধস নামে।উদ্ধার অভিযানে এনডিআরএফের পাশাপাশি ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেড (ইসিএল)-এর বিশেষ উদ্ধারকারী দলও অংশ নেয়।সিকিম সরকার নিহতদের পরিবারকে ৪লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে।নিহতদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ,অসম,উত্তরাখণ্ড,সিকিম ও পাঞ্জাবের শ্রমিকরাও রয়েছেন।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে একাধিক রাজ্যে।