২৫০ খানা মন্ট্রা ইলেকট্রিক রাইনো ট্রাক পথে নামাচ্ছে ওয়ান্ডার সিমেন্ট; ভারতের দীর্ঘতম, ১,৪৫০ কিলোমিটার লম্বা, মালবাহী রুটকে বৈদ্যুতিক করে তোলা হল

ভারতের ফুল-স্পেকট্রাম বৈদ্যুতিক বাণিজ্যিক গাড়ির ব্র্যান্ড মন্ট্রা ইলেকট্রিক (eM&HCV ডিভিশন) ও ওয়ান্ডার সিমেন্ট আজ ঘোষণা করেছে যে প্রায় ২৫০ খানা ভারি বৈদ্যুতিক ট্রাক, Rhino 5538 EV 4×2 TT, পথে নামানো হবে। এটা ভারতীয় শিল্পে সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক ট্রাক পথে নামানোর প্রতিশ্রুতিগুলোর অন্যতম নিদর্শন এবং ভারতের লম্বা দূরত্বের মালবাহী সেক্টরের বিদ্যুতায়নের দিকে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ট্রাকগুলো নিমবহেরা-দহেজ বন্দর আর নিমবাহেরা-টুনা বন্দর রুটে চলাচল করবে। এই পথ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মধ্যে দিয়ে প্রায় ১,৪৫০ কিলোমিটার। ফলে এটাই হয়ে দাঁড়াবে ভারতের দীর্ঘতম বাণিজ্যিক বৈদ্যুতিক মালবাহী করিডোর। এই বহর সম্পূর্ণ লোডেড অবস্থায় চলাচল করবে দৈনিক ডিউটি সাইকেলে, ঠিক যেমন সাধারণ ডিজেল গাড়ির বহর সিমেন্ট নিয়ে চলাচল করে। প্রমাণিত হবে যে বৈদ্যুতিক ট্রাকগুলো লম্বা দূরত্বে মাল বহন করার চাহিদা পালন করতে সক্ষম, দূরত্ব যতখানিই হোক। এই করিডোরে একান্ত নিবেদিত চার্জিং পরিকাঠামো রয়েছে, যাতে আছে ৩৯ খানা চার্জার সমেত ১৩ খানা চার্জিং স্টেশন। ফলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লজিস্টিক্স অপারেশনসে যেটুকু টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম থাকে, তার মধ্যেই এই বহর রোজ লম্বা দূরত্বের ডিউটি সাইকেলে কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। মন্ট্রা ইলেকট্রিক Rhino 5538 EV 4×2 TT হল এক ৫৫ টন গ্রস কম্বিনেশন ওয়েট (GCW) বৈদ্যুতিক হেভি-ডিউটি ট্র্যাক্টর-ট্রেলার, যা তৈরিই করা হয়েছে ইস্পাত ও সিমেন্ট বহন করার মত শিল্পক্ষেত্রের ব্যবহারের জন্য। এই গাড়ি চলে একটা ২৮২ kWh লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (LFP) ব্যাটারির সঙ্গে পারমানেন্ট ম্যাগনেট সিংক্রোনাস মোটর (PMSM)-এর সমন্বয়ে। সর্বোচ্চ ক্ষমতায় ২৮০ কিলোওয়াট শক্তিতে এবং ২,০০০ Nm টর্কে চলে, সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ উচ্চমাত্রার ভার বহন সামলাতে ১৮% গ্রেডেবিলিটি আর 6-speed অটোমেটেড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন (AMT)।

এই ট্রাক একবার চার্জ দিলে এক দিকে ভর্তি, অন্যদিকে খালি অবস্থায় একটা ডিউটি সাইকেলে ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে বলে পরীক্ষিত। বাস্তবে এই পরিমাণ পথই একটা মালবাহী ট্রাককে চলতে হয়। এই ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে দুরকম কনফিগারেশনে: একটা গড় ফিক্সড-ব্যাটারি বিকল্প যা প্রায় ৬০ মিনিটে ফাস্ট-চার্জিংয়ে ২০% থেকে ১০০% স্টেট অফ হেলথ (SOH)-এ পৌঁছে যায়, অন্যটা ব্যাটারি-বদল বিকল্প যেখানে ৬ মিনিটের কমে সম্পূর্ণ ব্যাটারি বদলে ফেলা যায়। তার ফলে এই রুটের মত ব্যস্ত রুটে অচল থাকার সময় একেবারে ন্যূনতম করে ফেলা সম্ভব হয়।এই বহর পথে নামালে সেই তিনটে বাধাকেই দূর করা হবে যেগুলো ঐতিহাসিকভাবে ভারতের লম্বা দূরত্বের মালবাহী সেগমেন্টে বৈদ্যুতিক ট্রাকের ব্যবহার সীমিত করে রেখেছে: রেঞ্জ, পেলোড আর ভার বহনে সুস্থায়ী ব্যাটারি পারফরম্যান্স। মন্ট্রা ইলেকট্রিকের লক্ষ্য দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত সিমেন্ট করিডোরগুলোর একটায় নিজের বহর নামিয়ে দিয়ে অন্য বাল্ক-কার্গো শিল্পগুলোর সামনে অনুকরণযোগ্য অপারেটিং মডেল প্রতিষ্ঠা করা। পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে ২৫০ খানা Rhino 5538 EV 4×2 TT বছরে ৩৯,৫০০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন আটকাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিরণ পাতিল, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ওয়ান্ডার সিমেন্ট, বললেন “সুস্থায়িতা ওয়ান্ডার সিমেন্টের বৃদ্ধি কৌশলের একেবারে কেন্দ্রে আছে, ওটাই আমাদের গোটা ভ্যালু চেনে উদ্ভাবন চালিয়ে নিয়ে যায়। ১,৪৫০ কিলোমিটার লম্বা একটা করিডোরে প্রায় ২৫০ ইলেকট্রিক ট্রাক চালানো আমাদের মাল বহনের ডিকার্বনাইজেশন এবং নির্মাণ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে আমাদের পরিবেশগত ফুটপ্রিন্ট কমানোর দিকে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। মন্ট্রা ইলেকট্রিকের সঙ্গে পার্টনারশিপে আমরা দেখিয়ে দিচ্ছি যে লম্বা দূরত্বের মালবহনের বিদ্যুতায়ন একইসঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য এবং বাণিজ্যিকভাবে টেকসই। এই উদ্যোগ দায়িত্বশীল বৃদ্ধির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আরও একবার দেখিয়ে দেয় এবং ভারতের আরও পরিবেশবান্ধব, কম কার্বনসম্পন্ন ভবিষ্যতের দিকে এগোনোয় মদত দেয়।

পাশাপাশি সিমেন্ট শিল্পের জন্যে সুস্থায়িতার নতুন মাপকাঠিও স্থির করে।”এই উপলক্ষে জলজ গুপ্তা, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মন্ট্রা ইলেকট্রিক (TI ক্লিন মোবিলিটি প্রাইভেট লিমিটেড), বললেন: “ভারতের মালবাহী গাড়ির কার্বন নির্গমন মূলত তার লম্বা দূরত্বের ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোরগুলোতেই, আর সেখানেই বিদ্যুতায়নকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। ওয়ান্ডার সিমেন্টের সঙ্গে মিলে আমরা ভারি ইলেকট্রিক ট্রাকগুলোকে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত মালবাহী রুটে রোজকার, সম্পূর্ণ লোডেড, লং ডিউটি সাইকেলে নামাচ্ছি। এরপর ‘ইলেকট্রিক ট্রাক লম্বা দূরত্বে মাল বহন করতে পারবে কি?’ এ প্রশ্ন আর কেউ করবে না। জিজ্ঞেস করবে ‘কত তাড়াতাড়ি গাড়ির বহরগুলো আরও বড় হতে পারবে?’ ভারতের প্রধান শিল্প করিডোরগুলোতে প্রায় ২৫০ ইলেকট্রিক ভারি বাণিজ্যিক গাড়ি নামানোর দায়বদ্ধতা ছিল। সেটা এবার পূরণ হতে চলেছে।” নবনীত শেঠি, সিইও (eM&HCV division), মন্ট্রা ইলেকট্রিক (IPLTech ইলেকট্রিক প্রাইভেট লিমিটেড), যোগ করলেন: “এই গাড়িগুলো মোতায়েনে আমাদের পার্টনার হওয়ার জন্যে এবং আমাদের উপর বিশ্বাস করার জন্যে আমরা ওয়ান্ডার সিমেন্টের কাছে কৃতজ্ঞ। ১,৪৫০ কিলোমিটার লম্বা ও ব্যস্ত শিল্প করিডোরে এই গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে এবং অপারেশনে টেকসই হওয়া একথা প্রতিষ্ঠা করে যে লম্বা দূরত্বের লজিস্টিক্স এখন বড় আকারে হওয়ার মত তৈরি। আমাদের গাড়িগুলোকে তৈরি করা হয়েছে ঠিক এই ধরনের অবস্থায় বহু ব্যবহার, ভারি পেলোড এবং প্রবল চাপের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমের উপযুক্ত করে। আমরা এই শিল্পক্ষেত্রের জন্যে ওয়ান্ডার সিমেন্টের সঙ্গে মিলে এই দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পেরে গর্বিত।” ওয়ান্ডার সিমেন্টের সঙ্গে পার্টনারশিপ মন্ট্রা ইলেকট্রিকের বৃহত্তর দায়বদ্ধতার অংশ। সেই দায়বদ্ধতা হল ভারতের প্রধান শিল্প করিডোরগুলো জুড়ে ২৫০-এর বেশি ভারি বাণিজ্যিক গাড়ি পথে নামানো।