দার্জিলিং শহর নয়, ঘুরে আসুন দার্জিলিংয়ের এই ৩ গ্রামে

দার্জিলিং জেলাতেই রয়েছে এমন কিছু পাহাড়ি গ্রাম, যেখানে পর্যটনের চেনা ভিড় এখনও সেভাবে পৌঁছয়নি। সেখানে নেই শহরের ব্যস্ততা। বদলে রয়েছে পাইন বন, চা-বাগান, মেঘে ঢাকা পাহাড় আর একরাশ নির্জনতা। শহুরে জীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে ঘুরে আসতে পারেন দার্জিলিং জেলার তিন গ্রাম – লিংসেবং,রঙ্গারুন এবং তাকদা।

লিংসেবং

দার্জিলিংয়ের আশপাশে ছোট ছোট পাহাড়ি গ্রামের অভাব নেই। কিন্তু লিংসেবংয়ের আকর্ষণ তার নিস্তব্ধতা আর প্রকৃতির নিবিড় উপস্থিতিতে। চারপাশের ঘন পাইনবন অনেকটা রূপকথার জগতের মতো। কখনও মেঘ এসে ঢেকে দেয় পাহাড়, কখনও কুয়াশার চাদরে হারিয়ে যায় গোটা গ্রাম।

আকাশ পরিষ্কার থাকলে অবশ্য বদলে যায় দৃশ্যপট। দূর থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। পাহাড়ের গায়ে আলো-ছায়ার খেলায় ফুটে ওঠে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘ঘুমন্ত বুদ্ধ’-এর অবয়বও।

পাখি ও বন্যপ্রাণ নিয়ে যাঁদের আগ্রহ, তাঁদের জন্যও এই এলাকার অরণ্য আকর্ষণীয়। জঙ্গলের পাশ দিয়ে পায়ে চলা পথ এগিয়ে গিয়েছে সান্দাকফুর দিকে। এই অরণ্যে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। ভাগ্য ভালো হলে ট্রেকের পথে রেড পান্ডার দেখা পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

লিংসেবংয়ে একাধিক হোমস্টে রয়েছে। পাহাড়ি পরিবেশে স্থানীয় আতিথেয়তার স্বাদ পেতে পারেন সেখানেই। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে লিংসেবংয়ের দূরত্ব আনুমানিক ১২৫ কিলোমিটার। সরাসরি গাড়ি বুক করে যাওয়াই সবচেয়ে সুবিধাজনক। নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি থেকে জোড়বাংলোর শেয়ার গাড়ি পাওয়া যায়। জোড়বাংলো থেকে লিংসেবংয়ের জন্য আলাদা গাড়ি ভাড়া করতে হবে।

রঙ্গারুন

বিস্তীর্ণ উপত্যকাজুড়ে চা-বাগান, তার মাঝে ছোট ছোট কাঠের বাড়ি, ফুলের গাছ, চাষের জমি আর পাহাড়ি পথ-সব মিলিয়ে রঙ্গারুনের সৌন্দর্য খুবই স্বাভাবিক। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকেও দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। সবুজ চা-বাগান দূর থেকে মনে হয় পাহাড়ের গায়ে বিছিয়ে রাখা গালিচা। রঙ্গারুনের আর একটি আকর্ষণ ট্রেকিং। এখান থেকে বেশ কয়েকটি পথে হাঁটা যায়। তার মধ্যে রুংদাং খোলার পথটি বিশেষভাবে উপভোগ্য। সকালে প্রাতরাশ সেরে হাঁটা শুরু করলে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারের পথ পেরিয়ে পৌঁছনো যায় পাহাড়ি ঝোরার কাছে।

রঙ্গারুনে বেশ কয়েকটি হোমস্টে রয়েছে। স্থানীয় খাবার এবং পাহাড়ি আতিথেয়তার স্বাদ নিতে পারেন সেখানেই। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে জোড়বাংলো হয়ে রঙ্গারুনের দূরত্ব আনুমানিক ৭৫ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি থেকে জোড়বাংলোর শেয়ার গাড়ি পাওয়া যায়। সেখান থেকে রঙ্গারুন যেতে হোমস্টের গাড়ি বুক করে নেওয়া সুবিধাজনক। চাইলে শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি থেকেই পুরো যাত্রার জন্য গাড়ি ভাড়া করতে পারেন।

তাকদা

তাকদার নিসর্গদৃশ্য অপূর্ব। আঁকাবাঁকা মসৃণ রাস্তার দু’পাশে বিস্তীর্ণ চা-বাগান। সবুজের মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে পাইন ও সিডার গাছ। পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট বাড়ি গোটা দৃশ্যকে আরও সুন্দর করে তোলে। প্রকৃতির পাশাপাশি তাকদায় রয়েছে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণও। এখানেই রয়েছে পেমা সোলিং গুম্ফা। পরিষ্কার আকাশে দূর থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা।

তবে তাকদার আসল আনন্দ হয় পায়ে হেঁটে। পাহাড়ি পথ ধরে ঘুরতে ঘুরতে দেখা মিলবে চা-বাগান, কমলালেবুর বাগিচা এবং পাহাড়ের নানা রকম দৃশ্যের। কোনও নির্দিষ্ট গন্তব্যের তাড়া না রেখে হাঁটতে হাঁটতেই আবিষ্কার করা যায় তাকদাকে।


তাকদায় একাধিক হোমস্টে রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বাংলোতেও থাকার সুযোগ রয়েছে।