শ্যামা প্রসাদের মাটিতে প্রথম বিজেপি সরকার: ধুতি-পাঞ্জাবিতে সেজে বাংলার মন জয় করলেন নরেন্দ্র মোদী

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো শনিবার। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার ‘জনশক্তি’র প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মঞ্চে উঠে তিনি কোনও ভাষণ দেননি, বরং তাঁর বিনম্র আচরণের মাধ্যমেই জয় করে নিয়েছেন উপস্থিত লক্ষ লক্ষ মানুষের মন।

শনিবার ছিল ২৫ বৈশাখ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণে রেখে মোদী প্রথমেই মঞ্চে থাকা বিশ্বকবির ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপরই ঘটে সেই অবিস্মরণীয় ঘটনা— মঞ্চের মাঝখানে গিয়ে হঠাৎই হাঁটু মুড়ে বসে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জনতাকে উদ্দেশ্য করে শুয়ে পড়ে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে তাঁর এই ‘নতজানু’ হওয়ার ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের জনশক্তির কাছে মাথা নত করছি।”

২৯৪ আসনের বিধানসভায় ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাধিক্য নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভিটেয় বিজেপির এই জয় দলীয় স্তরে এক বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই জয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করেই ফল ঘোষণার দিন দিল্লি থেকে বাঙালি পোশাকে ধুতি-পাঞ্জাবি পরে ভাষণ দিয়েছিলেন মোদী। আর এদিন কলকাতায় এসে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে নতমস্তক হলেন তিনি।

সকাল ১০টার পর কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে হেলিকপ্টারে রেসকোর্স এবং সেখান থেকে হুডখোলা গাড়িতে চড়ে ব্রিগেডে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পাশে ছিলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঞ্চে মোদীর এই সাষ্টাঙ্গ প্রণামের সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জেপি নড্ডা এবং রাজনাথ সিংহের মতো শীর্ষ নেতৃত্ব। এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাষণের পথে না হেঁটে এই মৌন প্রণামের মাধ্যমে মোদী বাংলার মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে নিবিড়ভাবে যুক্ত করার এক শক্তিশালী বার্তা দিলেন।