পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর. এন. রবি শুভেন্দু অধিকারীকে শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ এনডিএ জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব সহ দেশের ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে রাজনৈতিক মহলে বড় চমক দেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর গত ৮ মে কলকাতার কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন। পরে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান।

রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনকে শপথগ্রহণের জন্য বেছে নেওয়াকে রাজনৈতিক মহল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে। বাংলার সাংস্কৃতিক আবেগের সঙ্গে নিজেদের সংযোগ স্থাপনের বার্তা দিতেই এই দিন নির্বাচন করেছে বিজেপি বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের। ৫৬ বছর বয়সী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ের পর নতুন সরকারের হাত ধরে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের আশায় বুক বাঁধছে রাজ্যের মানুষ।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ও লক্ষাধিক মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে কলকাতা জুড়ে নেওয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯ মে ভোর ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরে পণ্যবাহী যান চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়। জরুরি পরিষেবাকে অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের হাত ধরে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনার অপেক্ষায় এখন গোটা পশ্চিমবঙ্গ।