বেতন বকেয়ায় শান্তিপুর পুরসভায় সাফাই কর্মীদের কর্মবিরতি

গতকালের পর আজও উত্তাল শান্তিপুর পুরসভা চত্বর। দীর্ঘ দিন ধরে বকেয়া বেতন না পাওয়ায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি ও বিক্ষোভে শামিল হলেন শান্তিপুর পুরসভার সমস্ত সাফাই কর্মীরা। তাঁদের সাফ কথা, “যতক্ষণ না অ্যাকাউন্টে বেতন ঢুকছে, ততক্ষণ একজন সাফাই কর্মীও কাজে যোগ দেবেন না।”বিক্ষোভকারীদের পক্ষে প্রধান বক্তা *শাহাজিৎ সেখ* জানান, শান্তিপুরের সমস্ত ওয়ার্ড, বাড়ি বাড়ি থেকে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার ও কনজারভেন্সির যাবতীয় গুরুদায়িত্ব তাঁরাই পালন করেন। অথচ মাসের পর মাস তাঁদের বেতন আটকে রাখা হচ্ছে। মাত্র সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতনে এই অগ্নিমূল্যের বাজারে সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্থানীয় দোকানদারেরাও তাঁদের আর বাকি দিতে রাজি হচ্ছেন না। দোকানে গেলেই শুনতে হচ্ছে, “আগে মাইনে পাও, তারপর জিনিস দেব।” দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণেই তাঁরা এই চরম আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বক্তা আরও অভিযোগ করেন, পুরসভার চেয়ারম্যান বড় বড় মেলা বা অনুষ্ঠানের জন্য ৩০-৪০ লক্ষ টাকা খরচ করছেন এবং জিনিসের দাম বাড়ার দোহাই দিচ্ছেন। কিন্তু সাফাই কর্মীদের সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতন দিতে পারছেন না। পুরসভার চেয়ারম্যান আগামী ২৭ তারিখের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও, কর্মীরা তা মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে বকেয়া বেতন মেটাতে হবে। আজ সকাল থেকে ক্ষুব্ধ কর্মীরা পুর স্টেডিয়ামের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে পুরসভার কনজারভেন্সি এবং বালতির গাড়ি সহ সোনা কোম্পানির সমস্ত ময়লা ফেলার গাড়ি ও গাড়ির ড্রাইভাররা এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছেন। আজ কোনো সাফাই কর্মীই নিজেদের হাজিরা বা ‘অ্যাটেনডেন্স’ খাতায় সই করেননি।

পুরো শান্তিপুর শহরের সাফাই ব্যবস্থা বর্তমানে স্তব্ধ। সাফাই কর্মীদের সাফ হুঁশিয়ারি— “যেদিন টাকা ঢুকবে, সেদিন থেকেই আবার শান্তিপুরবাসী পরিষেবা পাবেন, তার আগে নয়।” যদিও এদিন সকাল থেকেই শান্তিপুরের উপ পৌরপতি কৌশিক প্রামানিক পৌরসভায় উপস্থিত হয়ে সাফাই কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি জানাচ্ছেন সাফাই কর্মীদের দাবি খুবই প্রাসঙ্গিক। তবে এইভাবে যদি কর্মবিরতি চলতে থাকে তাহলে স্তব্ধ হয়ে যাবে শান্তিপুর। প্রয়োজন হলে পৌরসভায় তালা পরুক কিন্তু সাফাই কর্মীরা যাতে শান্তিপুরের সাধারণ মানুষের কথা মাথায় নিয়ে বিবেচনা করে কাজ করে।