পর্যটন ও চা শিল্পের ভারসাম্যে জোর, দায়িত্ব গ্রহণ করেই একাধিক ঘোষণা শংকর ঘোষের

রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এবার শিলিগুড়িতে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন দফতরের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের নতুন পর্যটনমন্ত্রী Shankar Ghosh। সোমবার শহরের মৈনাক ট্যুরিজম প্রপার্টিতে অবস্থিত পর্যটন দফতরের অফিসে পৌঁছে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন দফতরের আধিকারিকরা তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনাও জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে বিশ্বদরবারে নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি গোটা রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয় করে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “বাংলার পর্যটনকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে চাই, যাতে তা বিশ্বের মানচিত্রে একটি বিশেষ পরিচিতি পায়।”

আগামী ১৭ তারিখ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে শংকর ঘোষ জানান, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে একাধিক নতুন প্রস্তাব তিনি উপস্থাপন করবেন, যা পরবর্তীতে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তোলা হবে। পাশাপাশি পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। বিশেষ করে ঘুম থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রাস্তায় যানজটের সমস্যার কারণে পর্যটকদের যে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়, সেই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান পর্যটনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।

এছাড়াও উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন শংকর ঘোষ। তাঁর মতে, পর্যটনের প্রসারের নামে যাতে চা বাগানের ক্ষতি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে। পর্যটন এবং চা শিল্প—উভয় ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই উন্নয়নের পথে এগোতে চায় রাজ্য সরকার। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষের এই একাধিক ঘোষণাকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছে পর্যটন মহল।