বিহার, ১০ জুলাই ২০২৫ — সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক নির্দেশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিহারে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে রাজ্যের নির্বাচনী তালিকা পুনর্বিবেচনার ও যাচাইয়ের কাজ করতে হবে, যা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করেছে।
এই আদেশকে ঘিরে এনডিএ ও বিরোধী জোট ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A.)-র মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের নেতারা দাবি করেছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় নির্বাচন ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তাদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছরে বিহারে নির্বাচনী তালিকায় বহু ভুয়ো ভোটার যুক্ত হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত ভোটাররা প্রভাবিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, রাজ্যে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লক, যেখানে আরজেডি, কংগ্রেস এবং বাম দলসমূহ রয়েছে, তারা এই আদেশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এই নির্দেশকে হাতিয়ার করে এনডিএ সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে চাইছে, বিশেষ করে সেইসব কেন্দ্রগুলোতে যেখানে ইন্ডিয়া জোটের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।
আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “এটি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র। এনডিএ বুঝে গিয়েছে তারা হেরে যাবে, তাই আদালতের আদেশকে অজুহাত বানিয়ে তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”
এনডিএ পক্ষে উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা পাল্টা জবাবে বলেন, “বিরোধীরা চায় ভোট জালিয়াতি অব্যাহত থাকুক। আমরা চাই স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ করাই উচিত।”
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আদেশ অনুযায়ী নতুন করে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
এই অবস্থায় বিহারের রাজনীতিতে চাপা উত্তেজনা ও পারস্পরিক দোষারোপের মধ্যে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ ও সময়মতো সম্পন্ন হবে, এখন তা দেখার বিষয়।
Ask ChatGPTTools
