দক্ষিণবঙ্গে চড়চড় করে বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। এই হাঁসফাঁস গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের জলের কোনো বিকল্প নেই। পুষ্টিবিদরা ডাবের জলকে প্রাকৃতিক ‘ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন’ বা ওআরএস বলে অভিহিত করেন। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া খনিজের অভাব পূরণ করতে এবং পেশিতে টান ধরা বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা এড়াতে ডাব অত্যন্ত কার্যকর।
তবে প্রতিদিন একই ভাবে ডাবের জল খেতে অনেকেরই অরুচি আসে, বিশেষ করে খুদেদের ডাবের জল খাওয়ানো বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা সমাধানে ডাবের জল দিয়ে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন সুস্বাদু ও পুষ্টিকর কিছু পানীয় ও খাবার। সাধারণ জলের বদলে ডাবের জল দিয়ে তৈরি ‘শিকাঞ্জি’ রোদে পুড়ে বাড়ি ফেরার পর মুহূর্তে ক্লান্তি দূর করে। ডাবের জলের সঙ্গে লেবু, বিটনুন ও ভাজা জিরের গুঁড়ো মিশিয়ে নিলেই এটি তৈরি।
ফল প্রেমীদের জন্য ‘ফ্রুট স্লাশ’ হতে পারে আদর্শ বিকল্প। তরমুজ বা আনারসের মতো ফল ফ্রিজারে জমিয়ে নিয়ে ডাবের জলের সঙ্গে মিক্সিতে ঘুরিয়ে নিলেই তৈরি এই রিফ্রেশিং ড্রিঙ্ক। এছাড়া স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য রয়েছে ‘চিয়া পুডিং’। ডাবের জলে চিয়া বীজ সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে তাতে মরসুমি ফল ও বাদাম মিশিয়ে নিলেই মিলবে ঠান্ডা পুষ্টিকর প্রাতঃরাশ।
বাড়ির খুদে সদস্যদের জন্য ডাবের জল, বেদানা ও ফলের কুচি মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন ‘ডাব পপসিকল’। যা কেবল দেখতেই আকর্ষণীয় নয়, বরং আইসক্রিমের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি পুদিনা পাতা ও লেবুর রস সহযোগে তৈরি ‘ডাব পুদিনার শরবত’ এই গরমে আপনাকে দেবে অনন্য সতেজতা। তাই এই মরসুমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাধারণ ডাবের জলের বদলে এই বৈচিত্র্যময় রেসিপিগুলো অবশ্যই ট্রাই করুন।
