মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন: সমরকৌশলে নতুন মোড়

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার আবহে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন সূত্রে জানানো হয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম সুদক্ষ এবং দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ইউনিট ‘৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন’-কে এই অঞ্চলে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। এই বিশেষ ডিভিশনটি মূলত প্যারাট্রুপারদের নিয়ে গঠিত, যারা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে সক্ষম।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য হলো ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিগত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশে গোষ্ঠীগত সংঘর্ষ এবং প্রক্সি যুদ্ধ নতুন করে মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বারংবার হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের উপস্থিতি প্রতিপক্ষকে একটি কড়া বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা আকাশপথ থেকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নামার পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনায় পারদর্শী।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন সাধারণ পদাতিক বাহিনীর মতো নয়; বরং তারা ‘রেসপন্স ফোর্স’ হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ কোনো আকস্মিক হামলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তারা দ্রুত সেই স্থান দখল করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। ইতিপূর্বে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধেও এই বাহিনীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মোতায়েন শুধুমাত্র একটি নিয়মিত টহল নয়, বরং ওই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব কমানো এবং ইসরায়েলসহ অন্যান্য মিত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে শুরু করেছে। একদিকে যেমন মিত্র দেশগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিপক্ষ দেশগুলো একে উস্কানিমূলক হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তারা সরাসরি কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না, তবে যেকোনো ধরণের আগ্রাসন রুখতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও স্থলভাগে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ডিভিশনের বড় একটি অংশ নির্ধারিত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অবস্থান নেবে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই বিশেষ বাহিনীর স্থানান্তর যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে কতটা সক্ষম হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।