গাছের পাতা ও কাণ্ড, কচুরিপানা, ধানের শিষ থেকে শুরু করে কুমড়োর বীজ, শসার বীজ ও পেস্তার খোসা—ফেলে দেওয়া কিংবা সহজলভ্য এসব উপকরণ দিয়েই তৈরি হচ্ছে অভিনব রাখি। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি এই পরিবেশবান্ধব রাখি এবারও নজর কাড়ছে।
কৃষ্ণগঞ্জের চন্দননগর সমবায় সমিতির স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রতিবছরের মতো এবারও রাখির সম্ভার নিয়ে বাজারে এসেছেন। প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখার বার্তা দিতেই এবারের রাখিতে ব্যবহার করা হয়েছে কলাগাছ, বট ও অশ্বত্থের পাতা ও কাণ্ডের মতো প্রাকৃতিক উপকরণ। পাশাপাশি রয়েছে উলের তৈরি রাখিও।
এই রাখিগুলির দাম রাখা হয়েছে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে—৫, ১০ ও ২০ টাকা। আগের বছরগুলিতে তৈরি রাখির বিভিন্ন নকশাও রয়েছে তাঁদের সংগ্রহে। পাট, কাঠের গুঁড়ো, কচুরিপানা, ধান, কাপড় ও তালপাতার পাশাপাশি কুমড়োর বীজ, শসার বীজ, পেস্তার খোসা এবং ভুট্টার খোসা ব্যবহার করেও তৈরি হয়েছে নানা ধরনের রাখি।
ফেলে দেওয়া বা অব্যবহৃত উপকরণকে কাজে লাগিয়ে তৈরি এসব রাখি শুধু নান্দনিক নয়, পরিবেশবান্ধবও। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রাখির চাহিদা বাড়ছে। নদিয়া ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের দোকানেও পৌঁছে যাচ্ছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি এই রাখি।
এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের আরও একটি লক্ষ্য রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকৃতিপ্রেম ও পরিবেশভাবনার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তাঁরা প্রাকৃতিক উপকরণকে রাখির মতো ভালোবাসার বন্ধনের প্রতীকে রূপ দিচ্ছেন। তাঁদের হাতে ফেলে দেওয়া উপকরণই হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব ও সৃজনশীল রাখি।
