থমকে থাকা কেন্দ্রীয় গ্রামীণ প্রকল্পগুলি ফের চালু, ঘোষণা পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপের

দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে ফের চালু হওয়ার পথে। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পুনরায় আসতে শুরু করায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, আবাসন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে আশাবাদী রাজ্য প্রশাসন।

দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ২০২২ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলির বরাদ্দ কার্যত বন্ধ ছিল। মন্ত্রীর দাবি, সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে এখন একাধিক প্রকল্প ফের সক্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (এমজিএনআরইজিএস), প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (পিএমএওয়াই-জি), প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (পিএমজিএসওয়াই), দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা-জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন (ডিএওয়াই-এনআরএলএম), রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান (আরজিএসএ), জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি এবং কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্প।

গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, গত ২৭ মে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এমপাওয়ার্ড কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নীতিগত অনুমোদন মিলেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২,৭৯০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তা এবং ৪৫টি সেতু নির্মাণ করা হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে বলে খবর।

এদিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয় একশো দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে। ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে কার্যত বন্ধ হয়ে থাকা এমজিএনআরইজিএস প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ডধারীকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।