ভারতের পরবর্তী বড় কনসার্ট অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসতে পারে অসম। বুকমাইশো, অসম ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (ATDC) এবং ইওয়াই-পার্থেননের যৌথ প্রতিবেদনে আগামী পাঁচ বছরে লাইভ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যে ৭০০ কোটিরও বেশি টাকার সামগ্রিক আর্থিক প্রভাবের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।গুয়াহাটিতে প্রকাশিত ‘দ্য অসম ব্লুপ্রিন্ট: টার্নিং লাইভ মিউজিক ইকোনমি ইনটু আ ট্যুরিজম মাল্টিপ্লায়ার’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে রাজ্যের পর্যটন, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গীতানুষ্ঠানের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত মার্কিন র্যাপার পোস্ট ম্যালোনের প্রথম একক ভারতীয় কনসার্টকে কেস স্টাডি হিসেবে তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওই অনুষ্ঠান থেকে মোট ৪৩ কোটি টাকার আর্থিক প্রভাব তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে অসমে সরাসরি ব্যয় হয় ৩২ কোটি টাকা এবং জিএসটি বাবদ আয় হয় প্রায় ৫ কোটি টাকা। প্রায় ২০ হাজার দর্শক ওই কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন, যাঁদের ৫৩ শতাংশই গুয়াহাটির বাইরে থেকে এসেছিলেন এবং তাঁরা দেশের ২০০-রও বেশি শহর ও জনপদের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনসার্টের টিকিটে প্রতি ১০০ টাকা খরচের বিপরীতে দর্শকরা যাতায়াত, আবাসন, খাবার ও কেনাকাটায় অতিরিক্ত ৮৯৯ টাকা ব্যয় করেছেন। এর ফলে হোটেলে দখলদারির হার ৩০ শতাংশ বেড়েছে, পরিবহণ পরিষেবায় চাহিদা ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রেস্তোরাঁ ও খুচরো ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য হারে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে।
এই তথ্য গুয়াহাটিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটন ও লাইভ বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালে শহরটিতে লাইভ ইভেন্টে দর্শক উপস্থিতি ১৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং ৫৫টি টিকিটভিত্তিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়, যা আতিথেয়তা, খুচরো ব্যবসা, পরিবহণ এবং স্থানীয় উদ্যোগগুলির জন্য নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। সরকারি আধিকারিকদের মতে, অসমের কনসার্ট ট্যুরিজম নীতি, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং এটিডিসি-র সিঙ্গল-উইন্ডো সুবিধা একটি টেকসই বিনোদনভিত্তিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। আগামী ১৭ নভেম্বর, ২০২৬-এ কিংবদন্তি রক ব্যান্ড গানস এন’ রোজেস-এর গুয়াহাটি সফর রাজ্যের এই ক্রমবর্ধমান মর্যাদাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
