ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত উত্তর ভেনিজুয়েলায় ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিতে ভারত “অপারেশন অ্যামিস্টাড” শুরু করেছে। এই মানবিক মিশনের অংশ হিসেবে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর দুটি সি-১৭ বিমান একটি ৪১ সদস্যের মেডিকেল টিম, একটি ফিল্ড হাসপাতাল ইউনিট, ওষুধপত্র, দুটি ভীষ্ম কিউব এবং প্রায় ৩৫ টন ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে রওনা হয়েছে।
ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর (যার মাত্রা রিখটার স্কেলে ৭.২ এবং ৭.৫ ছিল), ভারত আবারও একটি বিশ্বব্যাপী “প্রথম সাড়াদানকারী” হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। স্প্যানিশ শব্দ Amistad-এর অর্থ “বন্ধুত্ব”।
২৬ জুন এক্স অ্যাকাউন্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর জানান যে, ভেনিজুয়েলার ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণকার্যে জরুরি সাহায্য করতে “অপারেশন অ্যামিস্টাড” শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্যে শুক্রবার বিকেলে হিন্দন বিমান বাহিনী ঘাঁটি থেকে বিমান বাহিনীর দুটি সি-১৭ বিমানে সেনাবাহিনীর একটি ফিল্ড হাসপাতাল ইউনিট, ৩৫ টনেরও বেশি ত্রাণ সামগ্রী, ওষুধ ও দুটি ‘ভীষ্ম কিউব’ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, দুর্যোগ কবলিত এলাকায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা ও জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর সুপরিচিত ‘৬০ প্যারা ফিল্ড হাসপাতাল’-এর ৯ জন সামরিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ ৪১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল দল ভেনিজুয়েলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
ভারতের ‘আরোগ্য মৈত্রী প্রকল্প’-এর অধীনে তৈরি দুটি অত্যাধুনিক মোবাইল ফিল্ড হাসপাতাল বা ‘ভীষ্ম কিউব’ এই অভিযানের প্রধান আকর্ষণ, যা পোর্টেবল ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন সাপোর্ট নিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটে সচল হয়ে ২০০ রোগীকে জরুরি চিকিৎসা দিতে পারে। মূলত “সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার” বা ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ নীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভারত অতীতেও ২০১৫ সালে নেপাল, ২০২৩ সালে তুরস্ক-সিরিয়া ও মিয়ানমারে দ্রুত দুর্যোগকালীন সহায়তা পাঠিয়েছে এবং কোভিড-১৯ মহামারীতে ১০০-রও বেশি দেশে ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে। ভেনিজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৩৫ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ও ৪,৩০০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার এই কঠিন সময়ে, প্রায় ১৪,৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভারতের পাঠানো এই সাহায্য দুই দেশের গভীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে তুলে ধরে এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতকে একটি দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনিজুয়েলার পাশে ভারতের ‘অপারেশন অ্যামিস্টাড’
