বিজয় মালাকারের বিপুল জয়, বরাক উপত্যকায় আরও শক্তিশালী বিজেপি

অসম বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম বৃহৎ ব্যবধানে জয় লাভ করে বরাক উপত্যকায় বিজেপির শক্তি আরও সুদৃঢ় করলেন বিজেপি নেতা বিজয় মালাকার। রামকৃষ্ণ নগর বিধানসভা কেন্দ্রে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়ে তিনি শুধু নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকেই মজবুত করেননি, বরং দক্ষিণ অসমে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবেও উঠে এসেছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজয় মালাকার কংগ্রেস প্রার্থী সুরুচি রায়কে প্রায় ৮৩,৭৬৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। তিনি মোট প্রায় ১.৩৪ লক্ষ ভোট পান এবং প্রায় ৭০.৭ শতাংশ ভোট শেয়ার অর্জন করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি সাম্প্রতিক সময়ে অসমের অন্যতম বড় নির্বাচনী জয়।

১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী বিজয় মালাকারের বাড়ি করিমগঞ্জের রামকৃষ্ণ নগর এলাকায়, যা বর্তমানে শ্রীভূমি জেলার অন্তর্গত। তিনি শঙ্কর মালাকার ও প্রণতি মালাকারের পুত্র। অসম সংস্কৃত বোর্ডের অধীনে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি দশম শ্রেণির সমমানের শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

রাজনীতিতে পূর্ণসময়ের আগে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের সমস্যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ায় এলাকায় তাঁর একটি শক্তিশালী জনসংযোগ গড়ে ওঠে। তপশিলি জাতি সংরক্ষিত এই কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। ২০১৯ সালের রাতাবাড়ি উপনির্বাচনের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। পরে কেন্দ্র পুনর্গঠনের পর রামকৃষ্ণ নগর কেন্দ্রে তিনি ২০২১ সালেও জয়ী হন। তবে ২০২৬ সালের জয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

স্থানীয় স্তরে রাস্তা উন্নয়ন, বন্যা সমস্যা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষার মতো বিষয়কে সামনে রেখে কাজ করার জন্য বিজয় মালাকার পরিচিত। বরাক উপত্যকার বিভিন্ন অঞ্চলে চা-বাগান শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পরিবারের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিজেপির একাংশের মতে, বরাক উপত্যকায় সংগঠন শক্তিশালী করতে বিজয় মালাকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সাম্প্রতিক এই বিপুল জয়ের পর বরাক উপত্যকায় বিজেপির অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক মুখ হিসেবেই এখন দেখা হচ্ছে তাঁকে।