দাঁতের ক্ষয় রোধে বিপ্লব: আখের প্রোটিন দিয়ে ‘কৃত্রিম লালা’ তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা

দাঁতের শিরশিরানি, মাড়িতে ঘা কিংবা ক্যাভিটির সমস্যায় ভোগেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। সাধারণত সমস্যার গভীরতা না বাড়লে আমরা দাঁতের যত্ন নিতে উদাসীন থাকি। তবে এবার দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা দিতে এক যুগান্তকারী পথ দেখালেন ব্রাজিলের একদল বিজ্ঞানী। মাউথওয়াশের বিকল্প হিসেবে তাঁরা তৈরি করেছেন ‘কৃত্রিম লালা’, যার মূল উপাদান হলো সাধারণ আখের রস থেকে পাওয়া এক বিশেষ উদ্ভিজ্জ প্রোটিন।

গবেষকদের মতে, আখের রসে ‘কেনসিপিআই-৫’ (CaneCPI-5) নামক এক বিশেষ ধরনের প্রোটিন থাকে। এই প্রোটিনটি যেকোনো ধরনের সংক্রমণ রোধে অত্যন্ত শক্তিশালী। বিজ্ঞানীরা এই প্রোটিন ব্যবহার করে এমন এক স্প্রে বা মাউথওয়াশ তৈরি করেছেন, যা মুখে দিলে প্রাকৃতিক লালার মতোই কাজ করবে। এটি দাঁত ও মাড়ির ওপর একটি অদৃশ্য সুরক্ষা স্তর বা আবরণ তৈরি করে। পরীক্ষাগারে দেখা গিয়েছে, এই আবরণটি দাঁতের প্রাকৃতিক সুরক্ষাস্তর ‘এনামেল’-এর মতো কাজ করে, যা দাঁত থেকে ক্যালশিয়াম ও ফসফেট বেরিয়ে যেতে বাধা দেয়। ফলে দাঁতের ক্ষয় হওয়া বন্ধ হয়।

এই উদ্ভাবন বিশেষ করে সেই সব ক্যানসার রোগীদের জন্য আশার আলো নিয়ে এসেছে, যাঁদের মুখ বা গলার ক্যানসারের কারণে নিয়মিত রেডিওথেরাপি নিতে হয়। দীর্ঘ সময় রেডিয়েশন নেওয়ার ফলে অনেকের মুখগহ্বরে লালার পরিমাণ কমে যায়, যা থেকে মারাত্মক দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির সংক্রমণ ঘটে। এই কৃত্রিম লালা তাঁদের মুখে আর্দ্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি সংক্রমণ ও কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন রুখতেও সক্ষম হবে। এমনকি জিভের পুরনো ঘা সারাতেও এটি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই বিশেষ প্রোটিনকে আরও কিছু ভিটামিনের সঙ্গে মিশ্রিত করার পরিকল্পনা চলছে। লক্ষ্য হলো এটি এমনভাবে বাজারে আনা, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারেন। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝার দিন এবার বোধহয় আরও সহজ হতে চলেছে এই প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের হাত ধরে।