কোক স্টুডিওর নতুন গান ‘কাচৌড়ি গলি’

কোক স্টুডিও ভারত তাদের চতুর্থ সিজনের তৃতীয় গান নিয়ে হাজির হয়েছে। এবার তাদের সফর বেনারসের গলিতে, গানটির নাম ‘কাচৌড়ি গলি’। প্রথম অ্যাংলো-বার্মিজ যুদ্ধের সেই হারিয়ে যাওয়া মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পটভূমিতে অনুপ্রাণিত এটি একটি লোকসঙ্গীত। গানটির শুরু কাচৌড়ি গলিতে, যেখানে এক নারী তাঁর স্বামীকে অনিচ্ছাকৃত এক যুদ্ধের জন্য ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর হাতে রেঙ্গুনে চলে যেতে দেখছেন। তাঁর কণ্ঠে ঝরে পড়ছে আকস্মিক শূন্য হওয়া সংসারের ক্ষোভ ও দুঃখ, যা লোকসঙ্গীতের নিজস্ব ঘরানায় মাটির কাছাকাছি মিশে আছে। হাজার হাজার সাধারণ পরিবারের এই নীরব কষ্টের ইতিহাস কোনোদিন বইয়ের পাতায় জায়গা পায়নি, কিন্তু বেনারসের সরু গলিতে বছরের পর বছর বেঁচে ছিল।

তিনজন ভিন্ন ধারার শিল্পী রেখা ভরদ্বাজ, উৎপল উদিত এবং খোয়াব, তাঁদের নিজস্ব কণ্ঠ ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে গানটিতে গভীর আবেগ, মাটির গন্ধ ও শান্ত উত্তেজনা ফুটিয়ে তুলেছেন। কোকাকোলা ইন্ডিয়ার আইএমএক্স লিড শান্তনু গাঙ্গানে বলেন, “লোকসঙ্গীত খুব স্বাভাবিকভাবেই স্মৃতি বহন করে। ভোজপুরি সংস্কৃতির হারিয়ে যাওয়া গল্পগুলোকে আবার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনাই কোক স্টুডিও ভারতের লক্ষ্য। ‘কাচৌড়ি গলি’ তারই একটি উদাহরণ।” রেখা ভরদ্বাজ বলেন, “গানটি যুদ্ধ নিয়ে নয়, বরং যুদ্ধ আপনার থেকে কী কেড়ে নেয়, তা নিয়ে। আমরা সেই অন্তরঙ্গতা বজায় রাখার এবং আবেগ ও সততাকে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। কোক স্টুডিও ভারতের সঙ্গে এই কাজটি করার ক্ষেত্রে যা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে তা হলো, এত বড় আয়োজন হওয়া সত্ত্বেও গানটি ভীষণভাবে ব্যক্তিগত অনুভূতিকে ছুঁয়ে যায়।”

উৎপল উদিত বলেন, “এই গানটিতে ছোট ছোট নিখুঁত কাজ, বিরতি ও রুক্ষতা প্রকাশের মাধ্যমে শব্দের এক অনন্য জগৎ তৈরি করা হয়েছে। গানটির মূল লক্ষ্য ছিল ভোজপুরি লোকসঙ্গীতের ভাষা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা।” খোয়াবের কথায়, “কোক স্টুডিও ভারত সম্পূর্ণ স্থানীয় গল্প, উপভাষা ও হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে। ‘কাচৌড়ি গলি’ প্রমাণ করেছে যে ছোট ছোট বিষয়ের মধ্যেই সবচেয়ে গভীর অনুভূতি লুকিয়ে থাকে।”